
মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
উত্তরের জেলা নীলফামারী–তে আগাম আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা। হিমেল হাওয়ায় মুকুলের মিষ্টি সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, প্রকৃতিতে এনেছে নতুন এক আবাহন। মৌসুমের শুরুতেই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাগান মালিকরা দেখছেন বাম্পার ফলনের স্বপ্ন।
ছোট ও মাঝারি গাছে বেশি মুকুল
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের আমগাছে এবার মুকুলের আধিক্য বেশি। মুকুলের ঘন সাদা-হলুদ রঙে বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বাগান মালিকদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ছাপ।
জেলায় গৌড়মতি, হাড়িভাঙ্গা, মিশরি দানা, আম্রপালি, অ্যাংগো ব্যানেনা, খিরসাপাত, গোপালভোগ, ফজলি ও বারিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আম চাষ হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
এক মাস আগেই শুরু মুকুল
ডিমলা উপজেলা–র বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে থেকেই গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডিমলা সদর ইউনিয়ন–এর কুটিপাড়া গ্রামে অধিকাংশ গাছ এখন মুকুলে ঢাকা। চাষিরা গাছের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগান মালিকরা
খুটামারা ইউনিয়ন–এর এক বাগান মালিক আবু রেজা প্রামাণিক জানান, তাঁর বাগানে প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই তিনি প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করছেন।
কৃষি বিভাগের আশাবাদ
জেলা কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য অনুকূল রয়েছে। যথাযথ পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে এবং আবহাওয়া সহায়ক থাকলে, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মুকুলে মোড়া নীলফামারীর আমবাগান শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং জেলায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্তও উন্মোচন করছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে, চলতি মৌসুমে আম চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের