
ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
আমি স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্স চাই
ধর্মাবতার, আমি সেই রায় যেন পাই!
পয়তাল্লিশ বছর দাম্পত্য জীবন তার সাথে
ভালোবাসা বিহীন সংসার জীবন, আমার হাত ছিলো না তার হাতে!
আমি অন্য কাউকে ভালোবেসে ছিলাম একদিন
গত তিরিশ বছর বন্দী জীবনে মনে ছিলো, তাঁর কাছে আমার অনেক ঋণ!
দুই কন্যা সন্তান লালন-পালন শেষে, পাঠিয়েছি স্বামীর ঘর
এতদিন শ্বাসপ্রশ্বাস দূরত্বের মানুষ টা, ছিলো আমার পর!
দরিদ্র পিতা বলে, আমার ভালোবাসা দিয়েছিলাম কবর
ধর্মাবতার! ধনসম্পদ হেথা পেয়েছিলাম জবর!
আমি আজ-ও সেই মানুষটারে ভালোবাসি
আজ-ও তিনি আমার প্রতীক্ষায় আছেন বসি!
হয়তো আজ সে ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ
তাতে কি, আজ-ও আমি তার কাছে দায়বদ্ধ!
অযত্ন হয়নি আমার স্বামী নামক দাপ্তরিক শাসকের ঘরে
দুধে-ভাতে শ্বশুর শ্বাশুড়ি খেদমতে, ভর পুর ছিলাম “বরে”!
আমার মনপ্রাণ সঁপেছিলাম একদিন যারে, আজ-ও হৃদয় সেথা বন্দী
ঢাকা শহর এসে ছিলো দেহ, আজ-ও মনের সাথে হয়নি সন্ধি!
আজ ও ‘মধুমতী’ নদী পাড়ের “আছিয়ার”, মনে হয়
আমার, গত তিরিশ বছর সংসার জীবন কে ” পরকীয়া” কয়!
মন আর হৃদয় ছাড়া, বিয়ে নামে উপভোগে ‘দেহ’
পরকীয়া কয় না এদেশের গোবর মস্তিষ্কের কেহ!
আমি সব দিয়েছি দিতে পারিনাই, স্বামীকে মন
ধর্মাবতার, স্বামী ঠিকই ছিলেন, ছিলেন না আপন!
আপনি আমার তিরিশ বছরের শৃঙ্খল মুক্তির দিন রায়
আমার জীবনের বাকী দিন কয়টা ব্যয় করি আছেন যিনি অপেক্ষায়!
বাঁধন মুক্ত সংসার নামক দাপ্তরিক সম্পর্ক ছেড়ে
এই সংসার আমার ভালোবাসা নিয়ে ছিলো কেড়ে!
আমি মন খুলে ভো্রের সূর্য দেখতে চাই
সেই ষাটোর্ধ কে নিয়ে মধুমতী তে, একবার স্নানে যাই,
মুক্ত হয়ে যাব আমি, সেই মধুমতীর তীরে
আর থাকতে চাইনা কোলাহলের ভীড়ে!
আমার মত কতজন, কত সংসারে করছে অভিনয়
মন ছাড়া দিচ্ছে দেহ, শুধু দুমুঠো ভাতের জ্বালায়!
কত নারী পিতৃ বোঝা কমাতে, নিজ প্রেম দিচ্ছে কবর
আমি ও দিয়েছি, তিরিশ বছর করে ছবর!
আমার আর্জি শেষ হেথা ধর্মাবতার এ আদালতে
আমি চললাম স্বামী নামক দাপ্তরিক সম্পর্ক ছেড়ে, সেই বুকে মরতে!
সৃষ্টি কর্তার আদালতে কি বিচার হবে, আমি জানি না
দু’টো জীবন দু’প্রান্তে তিলে তিলে শেষ, মানব সমাজ রচিত আইন আমি মানি না!