
কলমে: শিরিনা আক্তার
একুশ আজও কাঁদে নীরবে নিভৃতে, দেখে অব্যক্ত মানবে
রক্তমাখা পথগুলো আজো প্রশ্ন রাখে ” তোমরা কি পরাধীন? দিয়েছে কি শৃঙ্খল কোন দানবে?
তবে কেন সেদিন ভাষার জন্য বুক চিরে ঝরেছিলো রক্তধারা,
কেন মায়ের কোলে আর ফিরল না সন্তানেরা আজো ভেবে হই সারা।
রাষ্ট্রের ঘোষণায় যখন ভাষা হলো বন্দী,
তখনই তো জেগে উঠেছিলো বাঙ্গালীর বুকের ভিতর আগুন,করেনি তারা কোন সন্ধি।
১৪৪ ধারা ভাঙা সেই পদধ্বনি আজও কাঁপায় ধরণী,
লাঠিচার্জ, গুলির শব্দ আজো—কাঁদে ঢাকার প্রতিটি ধূলিকণি।
সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত—রক্তে লিখল নাম,
বাংলার বুকে জেগে ওঠা স্বাধীনতার প্রথম গান।
মায়ের ভাষা রক্ষার তরে জীবন দিল যারা হেসে,
তাদের রক্ত শুকায়নি আজও স্মৃতি হয়ে রয়েছে বুকে মিশে।
কিন্তু আজও কেন পথে পথে বিভেদের কালো দেয়াল?
কেন রাজপথে জ্বলে ওঠে হিংসার নিষ্ঠুর মশাল?
হে বাংলা মানব, একুশ শেখায়—ভাষা মানে সবার অধিকার,
ভালোবাসায় গড়ো সমাজ, হৃদয় করো একাকার।
শহীদেরা রক্ত দিয়ে লিখে গেছে একটাই বাণী—
মানুষ আগে, বিভেদ পরে;
ভুলে যাও সকল গ্লানি।
একুশ মানে শুধু ফুল নয়, নয় কেবল গান,
একুশ মানে বুকের ভিতর জমে থাকা শোকের বান।
একুশ মানে ইতিহাস জুড়ে লুকিয়ে থাকা আর্তনাদ,
যেখানে প্রতিটি অক্ষর ভেজা শহীদের রক্তস্নাত।
আজও দেখি মিনারের পায়ে মানুষের ঢল নামে,
কেউ ছবি তোলে, কেউ ব্যস্ত শুধু নিজেরই কামে।
তবু এক কোণে বসে থাকে কোনো নিঃশব্দ প্রাণ,
হাতে ধরা ফুল কাঁপে তার—চোখে অশ্রুর টান।
সে জানে রক্তের দামে কেনা এই ভাষার অধিকার,
সে জানে ইতিহাস মানে কেবল বইয়ের অক্ষর নয় আর।
তাই একুশ এলে বাতাস ভিজে ওঠে নীরব কান্নায়,
বাংলা মায়ের বুক আজও কাঁপে শহীদের স্মৃতিছায়ায়।
বল তো তবে, একুশ কেন কাঁদে প্রতি বছর ফিরে?
কারণ আমরা ভুলে যাচ্ছি রক্তের ঋণ ধীরে ধীরে।
তাই একুশ দাঁড়ায় মিনারের ধারে বিষণ্ন চোখ মেলে—
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো দিন, ভুলে গেলে?”