
খুলনা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার সাতজন মেধাবী শিক্ষার্থী মহাকাশে মানব বসতি স্থাপন বিষয়ক একটি গবেষণাপত্র প্রণয়ন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তাদের এই গৌরবময় সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছে খুলনা আর্ট একাডেমি।
বিশ্বব্যাপী মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নাসা, স্পেসএক্স এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা-এর মতো প্রতিষ্ঠান। সেই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনুপ্রাণিত হয়ে ঝিনাইদহের এই শিক্ষার্থীরা চাঁদে সম্ভাব্য মানব বসতি স্থাপন নিয়ে গবেষণা করে। তাদের গবেষণাপত্রের শিরোনাম Stellar Haven: A Vision of Harmony, Health, and Progress। ১৯৩টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে দশম গ্রেড বিভাগে তারা প্রথম স্থান অধিকার করে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলেন খাজা আতিফ আবিদ, মোঃ তসলিমউদ্দিন ভুইঞা, আরেফিন সিদ্দিকী, ওমর ফারুক আল সাবিত, তাওফিক আহমেদ, তাছলিম আহমেদ ও মোঃ মুন্তাছির রহমান বিশ্বাস। তারা সবাই বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী। নিজস্ব উদ্যোগ, তথ্যসংগ্রহ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তারা গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে।গবেষণার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন উৎপাদন পদ্ধতি, মহাজাগতিক রশ্মি থেকে সুরক্ষা ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি ওজনহীনতার প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং মহাকাশে অবস্থানের মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ। পাশাপাশি চাঁদে টেকসই আবাসন গড়ে তোলার কারিগরি, পরিবেশগত ও মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ এবং সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে ধারণামূলক প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চতর গণিত ও সাধারণ গণিত অধ্যয়ন করছে সহকারী শিক্ষক দিব্যেন্দু কুমার পালের তত্ত্বাবধানে। সম্মানিত শিক্ষক দিব্যেন্দু কুমার পাল খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য,চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠজন। তিনিই এই আনন্দের সংবাদটি প্রথমে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসকে অবহিত করেন।খবরটি পেয়ে খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস গভীর আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি শিশু থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছি। নবীন প্রজন্ম যখন দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনে, তখন সত্যিই গর্বে হৃদয় ভরে যায়। কোটচাঁদপুরের এই সাত শিক্ষার্থীর অর্জন আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার।”তিনি শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা ও সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, সন্তানের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন মফস্বল এলাকার এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উপকরণ প্রদান করা হয়। খুলনা আর্ট একাডেমির পক্ষ থেকে সাত শিক্ষার্থী, তাদের শিক্ষক দিব্যেন্দু কুমার পাল ও অভিভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে তারা আরও বড় সাফল্য অর্জন করে দেশের সুনাম বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করবে।