
মোঃ মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু), কিশোরগঞ্জ:
প্রিয় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সম্মানিত বাসিন্দাবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম/আদাব।
জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থনই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত শক্তি। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার জনগণ যে ভুমিধ্বস বিজয় উপহার দিয়েছিলেন, তা শুধু একটি রাজনৈতিক সাফল্য ছিল না—বরং ছিল দায়িত্ব, বিশ্বাস ও জনসেবার এক বিশাল অঙ্গীকার। সেই ঐতিহাসিক সমর্থনের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করা সম্ভব নয়; তবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করাই ছিল এবং থাকবে সেই ঋণ শোধের একমাত্র প্রয়াস।
গত দায়িত্বপালনের সময়ে কিশোরগঞ্জ সদরের সার্বিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে রাস্তা-ঘাটের সংস্কার ও নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কৃষকদের সহায়তা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব কাজ শুধুমাত্র প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ থেকে নয়, বরং নিজ এলাকার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই পরিচালিত হয়েছে।
একটি উপজেলা তখনই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যায়, যখন উন্নয়ন হয় সমন্বিত, সুষম এবং জনগণকেন্দ্রিক। কিশোরগঞ্জ সদরকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান—এই পাঁচটি খাতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম স্থানীয় উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও জনসেবার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। দল যদি মনোনয়ন প্রদান করে এবং জনগণ যদি পুনরায় আস্থা রাখেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে—
দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করা, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায়সঙ্গত সেবা পায় দ্রুত ও সহজভাবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, যাতে কোনো এলাকা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না থাকে।
যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে একটি কর্মমুখী প্রজন্ম গড়ে তোলা।
কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ভর্তুকি ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবমুখী ও টেকসই উন্নয়ন অব্যাহত রাখা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও শিক্ষিত সমাজ পায়।
রাজনীতির মূল দর্শন প্রতিশ্রুতির ভাষণে নয়, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে। একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে জনগণের কল্যাণে তার কার্যকর ভূমিকার উপর। সেই বিশ্বাস থেকেই আবারও কিশোরগঞ্জ সদরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করা হয়েছে।
সর্বোপরি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা গড়ে তোলা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ, ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে গেলে কিশোরগঞ্জ সদর হবে উন্নয়ন, মানবিকতা ও সুশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।