
লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
ইরান কেন আমেরিকার শত্রু? অপরাধ কি? ১৯৫৭ সালে তো আমেরিকা প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার নিজেই ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি করেছিলেন! রেজা শাহ পাহলোভি পর্যন্ত ইরান মার্কিনের হরিহরাত্মা, তা হলে ইসলামি বিপ্লবের পর ১৯৭৯ সাল থেকে খামেনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন গেলেন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার? তা হলে কি আমেরিকা মুসলমান ভালোবাসেন না? তা কি করে হয়, সৌদি আরব বাহরাইন কুয়েত কাতার ১১ টা দেশে তো চা-নাস্তা খান, মদ মহিলা, সেনা ঘাটি, তা হলে সাদ্দাম গাদ্দাফি মুজিব, ইরানের কাসেম সোলাইমানী কে কেন মরতে হয় আমেরিকার হাতে?
প্রিয় পাঠক, অনেক কিছু না বলে শুধু ইরানের শত্রুতার কথাটা বলি! ইরান তেল সমৃদ্ধ দেশ, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বাঙলাদেশের ডঃ ইউনূসের মত, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে রেজা শাহ উত্তোলন করা তেলের ৪০% আমেরিকায় পাঠিয়ে দিতো! খামেনি প্রশাসন সে সুবিধা বন্ধ করে দেয়! আমাদের নবী করীম সঃ এর দেশ সৌদি আরব, মার্কিনের সাথে ডলার চুক্তি সেই আদিকালের। তেল বিক্রি করে এক দেশ, লাভ যায় আমেরিকার পকেটে। সব আরবীয় দেশ মার্কিন অস্ত্র কেনে! আমেরিকার বিক্রিত বার্ষিক অস্ত্রের ৩৭% কেনে সৌদি আরব! যুবরাজ শক্ত হয়েছিলেন ডলার চুক্তি রিনিউ করেন নাই, অস্ত্র কেনা কমিয়ে ছিলেন কিন্তু আপনাদের কাছে পঁচা শামুক হলে-ও বিশ্বে শক্ত অবস্থান ছিলো বাংলাদেশের হাসিনা ও সিরিয়ার বাশার আল আসাদের! এই দুইজন কে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুসলিম বিশ্ব দারুন ভীত হয়ে গেছে এবং ডলার চুক্তি রিনিউ সহ ইসরায়েলের পক্ষ নেয় সব মুসলিম দেশ! ইরানের ইসরায়েলকে ছোড়া মিশাইল ভুপাতিত করে সৌদি আরব, মরক্কো, কাতার ইসরায়েলের পক্ষে।
প্রিয় পাঠক, বিশ্বের সব দেশ তাদের রিজার্ভ আমেরিকার ব্যাঙ্কে রাখে, আফগান সরকারের প্রায় দশ বিলিয়ন এবং সৌদি আরবের ১৭০০ বিলিয়ন ডলার একসময় আত্মসাৎ করেছে আমেরিকা।
দেখুন ইরানের চারিদিকে আরবীয় মুসলিম দেশগুলোতে কি পরিমান অস্ত্র বিমান যুদ্ধ জাহাজ মওজুদ করে যাচ্ছে আমেরিকা মুসলিম দেশ গুলোর সহযোগিতায়! রোজ ঐসব দেশে সৈন্য বাড়াচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন সৈন্য আছে মুসলিম দেশগুলোতে!
আমেরিকা বিশ্বের সব চেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশ যাদের ঋণের পরিমান ৩৭ ট্রিলিয়ন! ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সারা বিশ্বে মন্দা! ইউরোপীয় দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি ৭০০/৮০০%, তারপরেও ইরানকে সোজা করা প্রয়োজন।
আজ ভারতের “পিএম মোদি” ইসরায়েল পার্লামেন্টে ভাষন দিচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পলিসি ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে হেক্সাগোনাল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা! নেতানিয়াহু তার পার্লামেন্ট ভাষনে বলেছেন, ধরুন নেতানিয়াহু যা বলেন তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুবহু বানী!
ভারত কে কেন্দ্র করার উদ্দেশ্য কি, এশিয়া দখল। সেখানে এমন ও বলা হয়েছে সুন্নি মুসলিম আরবীয় দেশগুলো বাংলাদেশ পাকিস্তানের সব মধ্য প্রাচ্য কাজ করা লোক বের করে দিবে!
খেয়াল করুন রাশিয়া চীন ইরানের পিছে দাড়িয়ে গেছে যুদ্ধ জাহাজ সাবমেরিন নিয়ে, উত্তর কোরিয়া রাডার ডিসওর্ডার ড্রোন পাঠিয়েছে! ভারত কে গত দু’বছর কত ঘুষ দিয়েছে! দীর্ঘ ২৫ বছর চেষ্টায় যে জাতিসংঘের ভেটো পাওয়ার ভারত পায় নাই তা এক ঘন্টায় পেয়েছে। আমেরিকা ভারতের সাথে WAR PACT করেছে!
আজ তাকে হেক্সাগমাল (Six country weapons and Economy) লিডার করে দিচ্ছে! উদ্দেশ্য ইরান আক্রমণে ভারত চীন রাশিয়ার সাথে মিশে না যায়, ইরান রাশিয়ার তেল না কেনে?
আমেরিকা বিরোধী PACT এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে BRICS, এগিয়ে যাচ্ছে DEDOLARIZATION.
দূঃখ হয় ২০২৬ সালের শেষে বাংলাদেশ BRICKS সদস্য হয়ে যেতো, উন্নত দেশের তালিকায় নাম উঠতো! প্রস্তাব ছিলো সৌদি আরবের এবং সমর্থন ছিলো ভারতের। বাংলাদেশের শিক্ষিত আহাম্মক জনগোষ্ঠীর মগজে আজ-ও আসে না ১০০ বছরে আর এইসব আশা করা যায় না! শেষ মুসলিম দেশ ইরানও ধ্বংস হয়ে যাবে যে ধ্বংসের মার্কিন সহযোগী পাকিস্তান সহ আরবীয় সব মুসলমান দেশ!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন। মোমিন হয়ে মুসলমান হোন, তারপর নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত আদায় করুন !