শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

বিজয়নগরে বেপরোয়া রহিম মিয়া গং মাদক সিন্ডিকেট

Coder Boss
  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ Time View

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা বিজয়নগর এখন দেশের অন্যতম মাদক ও চোরাচালান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে থাকা পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর ,চান্দুরা- আখাউড়ার ও সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে চোরা পথে প্রতিদিনই প্রবেশ করছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, স্কফ সিরাপ ও বিদেশি মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ৫৫০ থেকে ৬০০ জন মাদক কারবারি সক্রিয় থাকলেও স্থানীয়দের ধারণা এই সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলার প্রায় ১৮-২০টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে মাদকের চালান, যা রেল, সড়ক ও নৌপথে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। সম্প্রতি রহিম মিয়া গং মাদক সিন্ডিকেট এর রোসানলে পড়ে ইছাপুরা ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার মোছাঃ শাহানা বেগম এর পরিবার জীবন ভয়ে এলাকা ছাড়া। শাহানা বেগম স্বরাস্ট্র মন্ত্রী,আইজিপি, ডিবি প্রধান, র‌্যাব এর ডিজি, এসবি প্রধান ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি বরাবরে লিখিত স্মারক লিপিতে বলেন, আমি মোছাঃ শাহানা বেগম, স্বামী-মোঃ তোতা মিয়া, সাং- কুতুবপুর ইউপি-০৩নং ইছাপুরা, খানা-বিজয়নগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া একজন নিরীহ গৃহীনি হই,আমার স্বামী একজন সাধারন পিকআপ ড্রাইভার হন।
আপনার বরাবরে আবেদন করিতেছি যে, চিহ্নিত মাদক কারবারী ও বিজয় নগরের মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদার (০১) রহিম মিয়া (৬০), পিতা- মৃত জুর আলী, (০২) শাহা আলম (৩০), পিতা-রহিম মিয়া সর্ব সাং-আলাদাউদপুর, ইউপি- ০২নং চান্দুরা, (০৩)জারু মিয়া (৫৫) (মোবাইল- ০১৭৩৪৯৮৪০৪৫ ) পিতা মৃত আবুল খায়ের, (০৪) হারুন মিয়া (৪৫) মোবাইল- ০১৭৩৮৯৮৭১৩২) পিতা মৃত আবুল খায়ের, সাং লম্বা হাটি, পশ্চিম কালাচড়া, ৮ নং বিষ্ণপুর ইউনিয়ন (০৫) সদু মিয়া পিতা মৃত হাফিজ, (০৬) মাসুদ মিয়া (রহিম এর মেয়ে জামাই) পিতা সদু মিয়া সাং পশ্চিম গাও ইছাপুর (০৭) নুর আলম পিতা-রহিম মিয়া সাং-আলাদাউদপুর, ইউপি- ০২নং চান্দুরা (০৮) নুরুন্নাহার বেগম (৫৫) স্বামী-মৃত সাজু মিয়া সাং-কালাছড়া, ইউপি-০৮নং বিষ্ণুপুর, গং সর্ব সাং থানা-বিজয়নগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উপরোক্ত ব্যক্তিগণ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সম্রাট। তাদের বিরুদ্ধে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ঢাকা, নারায়নগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা একাধিক মাদকের মামলা রহিয়াছে। মাদক ব্যবসা করা তাদের পেশা ও নেশা। ভারত সীমান্ত এলাকা হইতে লক্ষ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য চান্দুরা- আখাউড়ার চোরা পথে আনায়ন করিয়া সমগ্র বাংলাদেশে নিয়া অধিক মূল্যে বিক্রয় করে।
গং গত ২৪/০২/২০২৬ইং সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকায়, আমার বসত বাড়ি বিজয়নগর থানাধীন ০৩নং ইছাপুরা ইউনিয়নের কুতুবপুর সাকিন¯’, দলবল সহ এসে আমার বসত ভিটায় উপ¯ি’ত হণ তখন আমার স্বামী বাসায় ছিলেন না।
উপরোক্ত মাদক কারবারীগনের মাদক কে বা কাহারা নিয়া গিয়াছে এবং উক্ত মাদক আমাদের ঘরে আছে মর্মে দাবি করিয়া ঘটনার তারিখ ও সময়ে আসামীগন হাতে রাম দা, বড় ভুর, লোহার রড, কাঠের রোল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়া আমার বসত বাড়িতে আসিয়া আমার বসত ঘরে অনধিকার প্রবেশ করিয়া আমাকে ও আমার মেয়ে তামান্নাকে মারপিট শুরু করে। উক্ত সময় মাদক কারবারীগন আমাদের ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল ট্রাক গাড়িতে উঠাইয়া নেয়ার চেষ্টা করে তখন বাধা প্রদান করলে আমার এবং আমার মেয়ের শ্লীলতা হানির চেষ্ঠা করে এক পর্যায়ে আমার গলায় থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্নের চেইন ও আমার মেয়ের আইফেন চিনিয়ে নেয়। উক্ত সময় আমরা প্রতিবাদ করা মাত্র মাদক কারবারীগন আমাদের নিকট মাদকদ্রব্যের মূল্য ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে মাদক কারবারীগন আমাদেরকে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। আমাদের শোর চিৎকারে আশেপাশে থাকা লোকজন আসিয়া মাদক কারবারীগনকে বাধা নিষেধ দিয়া ফিরাইয়া দিলে মাদক কারবারীগন হুমকি দিয়া বলে যে, আমার ছেলে জুম্মান মিয়াকে মাদক কারবারীগনদের নিকট দিয়ে দিলে মাদক কারবারীগন আমার ছেলে নিয়ে খুন করে ২০ লক্ষ টাকা মাফ করে দিবে।
এসময় উপ¯ি’ত ছিলেন ১। মোছঃ তামান্না বেগম, পিতা-তোতা মিয়া ২। আবুল বাশার, পিতা- মৃত ইউনুছ মিয়া
৩। মোঃ হৃদয় হাসান, পিতা-মৃত ইউনুছ মিয়া সর্ব সাং-কুতুবপুর, ইউপি-০৩নং ইছাপুরা, থানা-বিজয়নগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া গং।
বর্তমানে মাদক কারবারীগন এর ভয়ে আমি ও আমার পরিবারে লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। মাদক কারবারীগন যেকোন সময় আমাদের বাড়িতে হামলা দেওয়াসহ আমাদেরকে খুন করিয়া আমাদের লাশ গুম করিয়া ফেলিতে পারে। এছাড়াও আমার স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা সৃজন, আমার সন্তানকে অপহরন সহ যে কোন অপরাধ সংঘটিত করার আশংক্য বোধ করছি । এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দাখিল করওে এখনো নিয়মিত মামলা রুজু করেননি পুলিশ। মাদক সিন্ডিকেটের কালোটাকা শক্তি ও গড়ফাদারে দৌড় নাকি অনেক উপরে। এমতাব¯’ায় মাদক কারবারীগন বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আমাদের জীবনের নিরপত্তা বিধান ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যব¯’া গ্রহন করার জন্য আপনার কাছে আরজি পেশ করছি।
এখন সবার প্রশ্ন এই মাদক সিন্ডিকেটের খুটির জোর কোথায়? তাদের কি আইনের আওতায় আনা যায়না? পুলিশের নিরবতা রহস্যাবৃত বলে মনে করেন এলাকা বাসী
মাদকের কারণে যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে, এদের বাঁচাতে না পারলে জাতি, সমাজ, দেশের সীমাহীন ক্ষতি হবে। মাদকের হট স্পট হিসেবে কুখ্যাত বিজয়নগর সীমান্ত এলাকা।” মাদক-ব্যবসায়ী ও মাদক চোরাচালানকারীরা দেশ ও জাতির সবচেয়ে বড় শত্রু। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বর্তমান নবগঠিত বিএনপি সরকার দেশকে মাদক মুক্ত করতে পারলে কোটি কোটি ভুক্তভোগী মানুষ তাদের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102