
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কয়ছর এম আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার আগে কৃষিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই কৃষিতে কোন সমস্যা আছে কি না, তা দেখতে সুনামগঞ্জের হাওরে পানিসম্পদ মন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে কোন গাফিলতি মেনে নেবো না। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাওরে বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে। শুধু তাই নয়, হাওরের ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। যাতে করে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ করতে না হয়। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করুন। সব সময় সাহসের সাথে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা লিখুন।
২ মার্চ সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহত নলুয়ার হাওরের পশ্চিমপ্রান্ত ভূরাখালি গ্রাম এলাকায় অবস্থিত ৪, ৫, ৬ ও ৭নং পিআইসি প্রকল্পের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ পরিদর্শনকালে ও স্থানীয় ভূরাখালি বাজারে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.বরকত উল্লাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো.শাহিদুল ইসলাম বকুল, কৃষক নেতা সাইদুর রহমান, জগন্নাথপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো.শাহজাহান মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলা পাউবো কর্মকর্তা শেখ ফরিদ, সাবেক ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু, সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ আলী, ইউপি সদস্য লিলু মিয়া প্রমূখ।
এ সময় জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবদুস সোবহান, আবুল হাশিম ডালিম, রুহেল আহমদ, সাংবাদিক শহীদ নুর আহমদ, সাংবাদিক তৈয়বুর রহমান, ইউপি সদস্য অনিল চন্দ্র দাস, রুবেল আহমদ, মফিজুর রহমান, আলামিন সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.বরকত উল্লাহ জানান, জগন্নাথপুর উপজেলায় উৎপাদিত আগামী বোরো ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষায় ৩৭টি পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ১৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৩ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হয়ে যাবে।
সভায় বক্তারা বলেন, হাওরে মাটি সংকটে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কাজ করেও টাকা মিলছে না। নলুয়ার হাওর ব্যতীত অন্যান্য উপরের কয়েকটি প্রকল্পে অল্পকাজে অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ সহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। জবাবে এমপি কয়ছর এম আহমদ এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
এর আগে ভূরাখালি গ্রামে অবস্থিত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের বাড়িতে কিছুক্ষন অবস্থান করেন এমপি কয়ছর এম আহমদ। এ সময় সাবেক বর্ষীয়ান নেতা আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুস সামাদ আজাদের রাজনৈতিক বর্নাঢ্য জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়। এতে রাজনৈতিক ভাতৃত্ববোধ সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পায়।