
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় “শূন্য বাল্যবিবাহ, শূন্য শিশুশ্রম এবং শূন্য স্কুল বহির্ভূত শিশু” শীর্ষক প্রচারণা কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাতা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ভিশ বাংলাদেশ, গোয়াইনঘাট এরিয়া প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী।
গোয়াইনঘাট এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেলী তেরেজা কস্তার সভাপতিত্বে এবং প্রোগ্রাম অফিসার ঝলমল মারিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. করিম মাহমুদ লিমন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মাঝে ছাতা বিতরণ করা হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট থানার এসআই ও পূর্ব জাফরং ইউনিয়নের বিট অফিসার আব্দুল হান্নান, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান এবং জাফলং ছাত্র সংসদের সদস্য সচিব শাকিব আহমেদ।
আয়োজকরা জানান, তীব্র তাপদাহ ও ঝড়-বৃষ্টির সময় শিশুদের সুরক্ষায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও স্কুল ঝরে পড়া রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রম শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার এবং খেলাধুলা ও বিনোদনের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক আলোচনায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত হাত ধোয়া, নখ কাটা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান এবং নিরাপদ পানি পান করার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিশু অধিকার সুরক্ষা ও শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।