ছোমাইয়া রফিক বর্না
বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলমান। এই মাস আমাদের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই পবিত্র মাসে আমরা অনেকেই ইফতার ও সাহরিতে অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া ও তেলযুক্ত খাবারের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছি। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং রমজানের প্রকৃত শিক্ষা অনেকাংশে উপেক্ষিত হচ্ছে।
বর্তমানে ইফতারের সময় বাজারে ও বাসাবাড়িতে দেখা যায় সমুচা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া, জিলাপি ইত্যাদি ভাজা খাবারের আধিক্য। এসব খাবার স্বাদে ভালো হলেও নিয়মিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভাজা-পোড়া খাবারে অতিরিক্ত তেল ও চর্বি থাকে, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে, ওজন বাড়ায়, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ ভারী ও তেলযুক্ত খাবার খেলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অনেক সময় মাথা ঘোরা, বমিভাব, পেটব্যথা কিংবা অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এসব খাবার আরও বেশি ক্ষতিকর।
তাই আমাদের উচিত এই পবিত্র মাসে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিমিত খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া। রমজানের মূল শিক্ষা হলো সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ, যা আমাদের খাদ্যাভ্যাসেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
আমাদের করণীয় বিষয়ে কিছু প্রস্তাব নিচে তুলে ধরা হলো—
ইফতারে অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে খেজুর, পানি, শরবত, ফলমূল, দই ও হালকা খাবার গ্রহণ করা ভালো।
তাজা ফল, শাকসবজি ও প্রাকৃতিক খাবার বেশি করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে শরীর সুস্থ থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যাবে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পায়।
সাহরিতে ভারী ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার না খেয়ে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত। যেমন—ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, দুধ ইত্যাদি।
পরিবারের বড়রা শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারেন এবং বাইরে থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার আনার প্রবণতা কমাতে পারেন।
সবশেষে বলতে চাই, রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই আমাদের খাদ্যাভ্যাসে সংযম ও সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। ভাজা-পোড়া খাবার পরিহার করে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুললেই আমরা রমজানের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারব।
আপনার সম্মানিত পত্রিকার মাধ্যমে এই বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।
লেখক:
ছোমাইয়া রফিক বর্না
শিক্ষার্থী
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বদরুন্নেসা ক্যাম্পাস।