তোমাকে যায় না ভোলা
তোমাকে নিয়ে চর্চা হলো আরও একবার,
দুবার,তিনবার– কতবার!
অনিরুদ্ধ মন ভুলতে পারে না মুখ ঊষার।
আদি দেবতার আশীর্বাদও পাই নি ছাই;
পেয়েছ তুমি,হয়েছ নির্ভার।
মদের পেয়ালা হাতে সম্মুখে আসে নি
কোনও চন্দ্রমুখী– ভুলাতে তোমার মুখ;
হেমলকের শেষ বিন্দুটুকু শুষে নিয়েছে
অজ্ঞাত কোন প্রেমিকের ঠোঁট,
আফিং-এর শেষ গুলিটাও নিঃশব্দে খেয়ে নিল কাদম্বরী–
আমি,তবে আমি কিভাবে তোমাকে ভুলতে পারি?
ইচ্ছে আমার বৃক্ষ হই
ইচ্ছে করে হরহামেশাই বৃক্ষ হয়ে যাই–
ফুল দিই,ফল দিই,সেজে থাকি পাতায় পাতায়;
ইচ্ছে করে,আমার ইচ্ছে করে বৃক্ষ হয়ে যাই।
হাজার পাখির আশ্রয় হই,
অহর্নিশি প্রাণ বিলোই–নিঃশর্ত উদারতায়;
রোদ-বৃষ্টি-ঝড়-বাদলে
অটল থাকার মন্ত্র শেখাই,
আমার ইচ্ছে করে বৃক্ষ হয়ে যাই।
ডাল ভাঙা,ছাল ছেঁড়া,
কৃতঘ্নদের হেলাফেলায়
পাষাণ বেঁধে হিয়ায়
বৃক্ষ কেবল আপন কাজটি আপনি করে যায়–
আমার ইচ্ছে করে এমনি ধারা
বৃক্ষ হয়ে যাই।
মৌন-মুখর সাতকাহনে
বৃক্ষ শেখায় জীবন মানে,
তাই তো মনে বৃক্ষ হতে চাই,
আমার ইচ্ছে করে বৃক্ষ হয়ে যাই।
প্রেম ও জীবন২
যদি চাও দিতে পারি অরবিন্দ গোলাপ
পাপড়ির কোমল অনুভব;
ভালোবাসার বিনিময় ভালোবাসা,
দেহ টানে দেহ,
মন সে-তো দিয়েছি কতকাল
নির্ভেজাল বকের পালক।
পালকে তোমার স্পর্শ চাও পাখির ঠোঁট?
নাও তবে নিষ্কর দুটি হাত;
ভিজাতেও পারি নোনা জলে
ভিজতে কর যদি সাধ।
আর কি দেব তোমায়?
আনিনি তো সাতনরী হার–
দিতে পারি দুটি ফল জীবনের নির্যাস,
নেবে?তবে নাও ধমনীতে রক্তের মতন;
দাও,দাও নিষাদ কন্যা,
দাও তবে আদিম আলিঙ্গন
মনে আজ অমরত্বের সাধ।
প্রেম ও জীবন ৩
আসি নি তো কাব্য হতে
তারা খসার ক্ষণে;
চেয়েছিলাম পদচিহ্ন দিতে
মৃত্যুর ভুবনে:
অথচ আমি আজ কবিতা_
চর্যার মতন শতবর্ষ পর
সান্ধ্য হবে যা,
সেই কাব্যে পেলাম ঠাঁই
প্রেমহীন উষ্ণীষ জড়িয়ে মাথায়।
অরুন্ধতী,তোমার প্রেমের প্রভায়
আমিও হতে পারতাম বশিষ্ঠ
সহস্র আলোকবর্ষতক–
কেন তবে এই কাব্যময়ী জীবন আমার,
তোমার অবহেলায় বিষণ্ন অন্ধকার শব?