
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরে হঠাৎ করে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। রোজার দিনে দীর্ঘসময় ধরে রোদে গাড়ি নিয়ে যানজটে আটকেপড়া মানুষদের ক্ষোভের যেন শেষ নেই। এই যানজট থেকে মুক্তি পেতে নলজুর নদীতে আর্চব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যানজট কমেনি বরং আরো বেড়েছে। কারণ সময়ের পরিক্রমায় দিনে দিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও রাস্তা-ঘাট বা জায়গা-জমি বাড়ছে না। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। ফলে দিনে দিনে যানজট বেড়েই চলেছে।
জগন্নাথপুর পৌর শহরের বুকচিরে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীতে প্রথম পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল এরশাদ সরকারের আমলে। এ ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় জগন্নাথপুর থেকে সরাসরি সিলেটের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়। পরে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সুনামগঞ্জের ডাবর থেকে জগন্নাথপুর রাণীগঞ্জ সেতু হয়ে সৈয়দপুর ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক চালু হয়। মূলত রাণীগঞ্জ সেতু হওয়ায় সুনামগঞ্জ বাসীর ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে।
সময়ের পরিক্রমায় মানুষ ও গাড়ির চাপে জগন্নাথপুর পৌর শহরে যানজট লেগেই থাকতো। কারণ সরু সেতুতে মানুষের সংকুলান হয়নি। এ যানজট থেকে মুক্তি পেতে বড় করে দৃষ্টিনন্দন আর্চব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এখন সেই আর্চ ব্রিজই মানুষ ও গাড়ির চাপে মনে হয় সরু হয়ে গেছে। ফলে জনভোগান্তি বেড়েছে।
যানজটে আটকে থাকা গৌর হরি, রবিউল ইসলাম, আনকার মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যেই লাউ সেই কদু। পৌর শহরে আগেও যানজট ছিল, বর্তমানেও আছে। আর্চব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো যানজট থেকে মুক্তি পেয়েছি। আসলে তা হয়নি। আর্চব্রিজ নির্মাণ হওয়ার পর শহীদ মিনার এলাকার সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, নতুন সেতু হবে বলে। এখানে রাখা হয়নি বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা। ফলে পেয়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও গাড়ি চলে না। তার পর ভেঙে দেয়া হয় হেলিপ্যাড হয়ে সি/এ মার্কেট পর্যন্ত বিকল্প সেতু। এতে দুই দিক থেকে কমেছে চলাচল ব্যবস্থা। সব চাপ পড়েছে একমাত্র আর্চ ব্রিজের উপরে। তার উপর ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে জনসমাগম।
৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, যানজটে নাকাল পৌরবাসী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন জানান, আর্চ ব্রিজের সামনে পৌর শহরে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। শহীদ মিনার এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এখানে বিকল্প হিসেবে বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হবে। আর নদীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হেলিপ্যাড-সি/এ মার্কেট বিকল্প সেতুটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। #
ক্যাপশন-জগন্নাথপুর পৌর শহর যানজটে নাকাল-ছবি-১
জগন্নাথপুর হাসপাতালের তৃতীয়তলা থেকে পড়ে রোগীর মৃত্যু
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয়তলা ছাদের উপর থেকে নিচে পড়ে সাজাদ মিয়া (৭০) নামের এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই গ্রামের মৃত আছলম উল্লার ছেলে।
হাসপাতালসূত্র জানান, গত ২ মার্চ শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সাজাদ মিয়া জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। এর মধ্যে ৫ মার্চ ভোররাত ৪ টার দিকে হাসপাতালের তৃতীয়তলা ছাদের উপর থেকে নিচে পড়ে যান রোগী সাজাদ মিয়া। এ সময় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ওসমানীতে যাওয়ার পর হতভাগ্য সাজাদ মিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা ডা.তানজিম হোসেন তা নিশ্চিত করেছেন। #
ক্যাপশন-জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যেখান থেকে পড়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে-ছবি-২
জগন্নাথপুরে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষতি
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদিশপুর গ্রামের সোহেল আহমদ তালুকদারের বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, ৪ মার্চ গভীর রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। পূর্ব শত্রুতাবশত কারো লাগানো আগুনে বাড়ির খড়েরঘর পুড়ে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে গৃহকর্তা সোহেল আহমদ তালুকদার জানান। খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সোহেল তালুকদার আরো জানান, একটি পক্ষ গত ২ বছর ধরে ফেসবুকে নানাভাবে অপপ্রচার করছে। একবার মব সৃষ্টি করে আমাকে মারতে চেয়েছিল। প্রতিপক্ষের কেউ আগুন লাগাতে পারে। সব থেকে দুঃখজনক হচ্ছে, অগ্নিকান্ডের কারণে বাড়ির কেউ সেহরি খেতে পারেননি।