শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

জীবন যেখানে থমকে যায়

Coder Boss
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১২ Time View

কলমে: শিরিনা আক্তার

যখন একটি শিশু, একজন কন্যা মায়ের হাসিতে হাসে,
আর বাবার কাঁধে চড়ে গল্প শুনে কিংবা বাবার কন্ঠে কন্ঠ মিলায়।
দৌড়ে যায় দাদুভাই বাজার থেকে তার জন্য চকলেট এনেছে কিনা দেখতে,
সেই টুকুন মেয়ে
পুতুল খেলার হাসিতে মেতে ওঠতো যার সারাটিক্ষন।
যার কণ্ঠের সেই সুমধুর ডাক আর সরল আনন্দে ভরে ওঠে চারপাশ,
কিছু বর্বর প্রানোচ্ছাস আর লালসার লেলিহান শিখায়
নিঃশব্দে থমকে যায় তার জীবন হঠাৎ!

কারণ এই পৃথিবীর সব শিশুর ভাগ্যে
সেই নিশ্চিন্ত শৈশব জোটে না কিছু দানবীয় লালসার জন্য।
তাই কোনো নিষ্পাপ মুখ
হঠাৎ করেই অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়,
যেখানে খেলনা ভেঙে পড়ে
আর ভেঙে যায় স্বপ্নও।

একবুক অব্যক্ত কষ্ট নিয়ে তখন নীরবে প্রার্থনা করে নারী—
হে স্রষ্টা,
শিশুরা যেন শুধু ফুলের গন্ধ চেনে,
মৌমাছির গুঞ্জন শোনে,
বকুল আর আমগাছের ছায়ায়
নির্ভয়ে ছুটে বেড়াতে পারে।
দাও পরিবেশ!
ধ্বংস করে দাও হায়েনাদের।

বাস্তবের পৃথিবী সব সময় এত কোমল নয়।
ছোট্ট প্রাণ
নিষ্ঠুরতার আঘাতে কেঁপে ওঠে বারবার।
তার নিষ্পাপ চোখে ভেসে ওঠে
অজানা ভয় আর অসহায়তা।

সেই মুহূর্তে যেন
সময়ের চলা থেমে যায়।
দোলনার হাসি থেমে যায়,
পুতুল খেলার আনন্দ থেমে যায়,
একটি ছোট্ট জীবনের আলো
হঠাৎ নিভে যেতে বসে।

আমি তখন নিজের ভেতরে
অসহায় মানুষের কান্না শুনি।
নিজের অস্তিত্বকে প্রশ্ন করি—
কেন এমন নিষ্ঠুরতা জন্ম নেয় মানুষের ভেতরে?
কেন একটি শিশুর হাসি
এত সহজে কেঁপে ওঠে ভয় আর যন্ত্রণায়?

তবু সেই শিশুটির নীরব আর্তনাদ
আমাদের বিবেককে ডেকে যায়—
মানুষ হও,তোমরা মানুষ হও!
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও,
নিরাপদ করো এই পৃথিবীকে।

প্রতিটি শিশুই
এই পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ফুল।
তাদের মুখের হাসি বাঁচিয়ে রাখাই
মানুষ হওয়ার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তাই —
হাঁটো সঠিক পথে।
অন্ধকার যত গভীরই হোক,
মানুষের হৃদয়ের আলো
একদিন জ্বলে উঠবেই।

সেই আলোয়
শিশুরা আবার খেলবে,
আবার হাসবে,
আর পৃথিবী আবার শিখবে—
মানুষ হয়ে বাঁচতে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102