
কাতেবুন্নেছা পারভীন
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলে আমরা বলতে পারি শিক্ষক জাতির মগজ।
মুসলিম ধর্ম মতে পবিত্র কোরআনে
মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন – এবং মানবজাতিকে শিক্ষাদান করেছেন। একজন শিক্ষক মানব সভ্যতার বিনির্মাণের ধারক ও বাহক।
কিন্তু দুঃখের সাথে লিখতে হচ্ছে যে – আমাদের রাষ্ট্রীয় শিক্ষা অবকাঠামোয় -জাল সনদের মাধ্যমে অনেকেই শিক্ষক হয়েছেন এবং বিভিন্ন সরকারি /এমপিও ভুক্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন – যা একটি রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করে এবং হুমকির সম্মুখীন করে কমল মতি শিক্ষার্থীদের মনোজগৎ। যাল সনদ সুস্পষ্ট দুর্নীতি এবং নৈতিক হীনতার পরিচয়
NTRCA -non government টিচার্স রেজিস্ট্রেশন এন্ড সার্টিফিকেট অথরিটি
একটি জরিপে ১১৭২ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের তালিকা তৈরি করেছেন, যা গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ গণমাধ্যম আর টিভি নিউজ হয়েছে।
এবং সারাদেশে ৯৭৩টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) ১মার্চ ২০২৬ এর রবিবার অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম এম শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জাল বা ভুয়া সনদ, অগ্রহণযোগ্য সনদ, অবৈধ নিয়োগ,
অর্থ আত্মসাৎ ভ্যাট-আইটি সহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
এসব অনিয়মের কারণে প্রায় ৯০ কোটি
৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে পাশাপাশি বেহাত হওয়া ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধারেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গত রবিবার ৪ জানুয়ারি ২০২৬ জাগো নিউজ ২৪ এর সূত্রমতে –
বেসরকারি স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসায়
জাল সনদে কর্মরত ২৫৬ জনের তালিকা- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে ।
তালিকায় পর্যালোচনায় দেখা যায় স্কুল কলেজে কর্মরত ১২৪ জনের কম্পিউটার সনদ জাল।
বেসরকারি শিক্ষা নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ জাল করেছেন ৭৮ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৫৪ জনের সনদ জাল বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মানিত পাঠক –
ডিআইএ সূত্র মতে, দেড় দশক ধরে জাল সনদ ধরার ব্যাপারে কার্যকর কোনো অভিযান হয়নি। বরং বহু ক্ষেত্রে জাল সনদ ধরা হলেও ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জাল সনদের সাড়ে ১২ হাজার আটকে থাকা ফাইল নতুন করে যাচাই করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ চিত্র, যেখানে ১২ জন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি চক্র শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ভুয়া সনদধারীদের ছাড় দিত। এখন এসব সনদ যাচাই করে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিআইএ অডিটের নামে কোনো কর্মকর্তা যেন অর্থ লেনদেন করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।
সম্মানিত পাঠক –
এমনই জাল সনদে যত ভুয়া শিক্ষক,
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভুয়া চিকিৎসক, ভুয়া আইনজীবী, বিভিন্ন দপ্তরে অধিদপ্তরে ভুয়া, সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারী আছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এটাই সময়ের দাবি, সকল জাল সনদধারী ব্যক্তি – সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার শত্রু।
বর্তমান সরকার প্রধান এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাদের সুশৃংখল কর্মতৎপরতায় ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে জনসমর্থনের
এক প্রকার আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং বিশেষ অনুরোধ করবো – সকল সুনির্দিষ্ট তদন্তের ভিত্তিতে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সকল সরকারি/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সর্বপ্রকার দুর্নীতিমুক্ত করার আইন অনুযায়ী সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই
বৈষম্য বিরোধী বাংলাদেশ বিনির্মাণে, সাম্য, মানবিক মূল্যবোধে- আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর বলে আমরা মনে করি।
বিঃদ্রঃ শুধুমাত্র জাল সনদধারী এবং দুর্নীতিবাজদের বিপক্ষে আমার এই কলাম লেখা।
তথ্যসুত্র -গুগল ও বিভিন্ন গণমাধ্যম হতে তথ্য উপাত্ত নেওয়া।
লেখক:
কাতেবুন্নেছা পারভীন,
শিক্ষক, কলামিস্ট, সমাজ সেবক।