মা হলো গর্ভধারিনী,
মায়ের সাথে হয় না কারো তুলনা।
এই পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলে
মায়ের স্নেহের সমান হয় না।
মা যে আজ বৃদ্ধ হয়ে গেছে,
হারিয়েছে জীবনের সাথী আমার বাবা।
সেই শোকে যেন স্মৃতির প্রদীপ
ধীরে ধীরে নিভে গেছে সারা।
কাউকে আর চেনে না মা,
শিশুর মতো হাসে খেলায় মেতে।
আপন-পর সব ভুলে গেছে আজ,
মাঝে মাঝে স্মৃতি জাগে নীরবেতে।
তবুও মায়ের হৃদয় কিন্তু
ভালোবাসায় ভরা আগের মতোই।
কিছু খাবার দিলে হাতে নিয়ে
আমাকেই আগে খেতে দেয় সবই।
বলে “তুই একটু খা আগে”,
মায়ের সেই স্নেহভরা বাণী।
স্মৃতি হারালেও মায়ের হৃদয়ে
আমাকে বুকে নেয় টেনে
আমার সহধর্মিনী শিলা রানী,
পুষ্প মায়ের সেবায় থাকে সারাক্ষণ পাশে।
লক্ষ্মী বউয়ের স্নেহভরা হাতে
মায়ের মুখে আবার হাসি ভাসে।
শিলা রানী সেবা করে ভালোবেসে,
তাই ঘর জুড়ে থাকে মায়ের আশীর্বাদ।
তার মমতায় দুঃখ সরে যায়,
ঘর ভরে ওঠে সুখের স্বাদ।
মার্চ মাসের তিন তারিখে
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মা।
তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে
ভর্তি করলাম সেবা দিয়ে তারা।
ডাক্তারবাবু পরীক্ষা করে
ওষুধ দিলেন, স্যালাইন দিলেন।
মাকে একটু সতেজ করতে
সান্ত্বনার কথা শুনিয়ে দিলেন।
মা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে
ভালো লাগে না কিছুই আর।
শিল্পচর্চা, লেখা, সব ছন্দ
হারিয়ে যায় মনের দ্বার।
তখন শুধু প্রার্থনা করি
সৃষ্টিকর্তার চরণতলে
বাবাকে নিয়েছো আমায় কাঁদিয়ে,
মাকে নিও না এমন ছলে।
এত কষ্ট দিও না ঠাকুর,
তোমার পায়ে জানাই প্রণাম।
আমার মাকে সুস্থ রেখো
এইটুকুই আমার আরাধনা।