
পলাশ মন্ডল আকাশ
উন্নয়নের পসরা ছিল, ছিল মেট্রো রেলের হাসি,
ঝকঝকে সব রাস্তার ধারে সুখ খুঁজেছে দেশবাসী।
কিন্তু দম্ভের আড়ালে যখন হারিয়েছে অধিকার,
এমপি-মন্ত্রী সব যেন ছিল স্বর্গের অবতার!
অহংকারে পাশে ঘেঁষা দায়, চলত না কোনো কথা
কাদের মিয়ার বুলি ছিল, বাড়ত মনের ব্যথা।
উচ্চস্বরে হুঙ্কার ছিল— “খেলা হবে খেলা!”
সেই খেলাতে হারলো সাধারণ, জমলো ভয়ের মেলা।
অহংকারের সেই দেয়াল ভাঙল ছাত্র-জনা,
জুলাই মাসের রক্তে এলো মুক্ত নতুন কণা।
সেই উত্তাল ঝোড়ো দিনে ঝরল কত প্রাণ,
ছাত্র-জনার লাশের পাশে পুলিশেরও রক্তদান।
দায়িত্বের ঐ কঠিন চাপে প্রাণ হারালো যারা,
মায়ের বুক খালি করে ওপারে গেল তারা।
বিভেদ ভুলে সবার রক্তে ভিজল দেশের মাটি,
কান্না সবার এক সমান—দুখের খবরটি খাঁটি।
আঠারো মাস ইউনূস সাহেব দিলেন শান্তি-সুর,
বাজারের ঐ আগুন তবে হলো না তো দূর।
অবশেষে ছাব্বিশেতে ফিরল ব্যালট-বক্স,
তারেক রহমানের জয়ে আজ সব চতুর যেন ফক্স!
ধানের শীষে ভোট দিলো হিন্দু-মুসলিম ভাই,
হিংসা বিভেদ ভুলে মোরা একটি দেশ চাই।
কিন্তু কেন ভোটের পরে কান্নার ঐ রোল?
সংখ্যালঘুর রক্তে কেন বাজছে ব্যথার ঢোল?
কারা তারা আজ নাম ভাঙিয়ে চালায় নিপিড়ন?
নবনির্বাচিত এমপি সাহেব—শোনেন নিবেদন:
ভোট দিয়েছে সব মানুষ, সবাই দেশের প্রাণ,
বিভেদ ভুলে রক্ষা করুন সবারই সম্মান।
পিশাচ-শকুন দূরে সরুক, মানুষ আসুক ফিরে,
সবাই মিলে সাহায্য হোক সরকারকে ঘিরে।
দল বড় নয়, দেশ বড় হোক—এই আমাদের আশা,
মানুষ যেন পায় খুঁজে তার আপন ভালোবাসা।
লেখক:
পলাশ মন্ডল আকাশ
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, খুলনা।