কলমেঃ শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, কবি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।
আজ ১৭ই রমাদ্বান—ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল দিন, ঐতিহাসিক যে বদর দিবস।
এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য শুধু একটি যুদ্ধের স্মৃতি নয়; বরং এটি সত্য, ত্যাগ, ঈমান ও আল্লাহর উপর অটল ভরসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২ হিজরির ১৭ রমাদ্বান, মদিনার নিকটবর্তী বদর নামক প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ—বদরের যুদ্ধ।
এই যুদ্ধে একদিকে ছিল ঈমানদীপ্ত মাত্র ৩১৩ জন সাহাবির একটি ক্ষুদ্র বাহিনী, অন্যদিকে ছিল মক্কার কুরাইশদের প্রায় এক হাজার সুসজ্জিত সৈন্য। বাহ্যিক শক্তি ও সামরিক সামর্থ্যের দিক থেকে মুসলমানরা ছিল অনেক দুর্বল। তবুও তারা অটল বিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থাকে পুঁজি করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
বদরের প্রান্তরে সংঘটিত সেই যুদ্ধ ছিল সত্য ও মিথ্যার, ন্যায় ও অন্যায়ের এক ঐতিহাসিক মোকাবিলা। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও সাহায্যে মুসলমানরা সেই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন। পবিত্র কুরআনে এই বিজয়ের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন যে, বদরের যুদ্ধে তিনি ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলমানদের সহায়তা করেছিলেন। ফলে এই যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; এটি ছিল ঈমানের শক্তি ও আল্লাহর সাহায্যের এক অনন্য নিদর্শন।
বদরের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল। এই বিজয়ের মাধ্যমেই মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং ইসলাম ধীরে ধীরে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ পায়। বদরের সেই দিনটি প্রমাণ করে যে, সংখ্যার আধিক্য বা বাহ্যিক শক্তি নয়—সত্যিকারের বিজয় আসে দৃঢ় ঈমান, ধৈর্য এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসার মাধ্যমে।
ঐতিহাসিক বদর দিবস আমাদেরকে ত্যাগ, সাহস, ধৈর্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা দেয়। বর্তমান সময়েও এই দিবস মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়।
এই পবিত্র বদর দিবসের উসিলায় মহান আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের প্রার্থনা—হে পরম করুণাময় রব, তুমি বিশ্বের সকল মুসলমানকে হেফাজত করো, তাদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করো এবং আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার তাওফিক দান করো। আমিন।