
সাবিত রিজওয়ান
আমরা বাঙালি? বাঙালির অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করতে লেগে পড়েছি। হয়ে যাচ্ছি পরনির্ভর। আমরা নিজ দেশের মেধাবী, পরিশ্রমী ও যোগ্য ব্যক্তিদের কদর করছি না। তাই তারা অভিমান করে। অভিমান করার পরেও চেষ্টা করে দেশটাকে উন্নত করার, কিন্তু তা বৃথা হয়ে যায়। আমরা সবাই হয়ে যাই অসাধু। অসাধু বলতে অনেক কিছু।
বাঙালি নিয়ে আর গর্ব না করো, কেননা এই বাঙালি স্যাকারিনযুক্ত বরফের পেছনে বাঁশ ঢুকিয়ে দিয়ে গর্ব করার যোগ্য। এদের হাঁটা এতটুকুই।
আমাদের বুয়েট তৈরি করে অটো: এটা আমি মনে করি লজ্জা। আমাদের দেশটা পারমাণবিক ক্ষেত্রেও অনেক দুর্বল। আমরা চাইলে শক্তিশালী করতে পারতাম। হয়তো পুরোপুরি শক্তিশালী না হলেও কাছাকাছি যেতাম, অন্তত চেষ্টা করতাম।
অন্য কোনো দেশ যদি আমাদের দেশকে আক্রমণ করতে আসে, তাহলে আমাদের কী করার থাকে? আমাদের করার থাকে আয়াতুল কুরসি পড়া।
আমরা বাংলা ভাষাকেও ভুলে যাচ্ছি। আমরা ভুলে যাচ্ছি মানবতা, সাহসী ভাষাগুলোকেও। আমরা বিদেশি ইন্টারনেটের প্রতি নির্ভরশীল। আমরা কি বিকল্প কিছু তৈরি করতে পারব না?
আমাদের অলিতে-গলিতে সভাপতি, সেক্রেটারি: কোনো কাজের না, লোক দেখানো ক্ষমতা আর ক্ষমতার অপব্যবহার। আজকে দেশটা হয়েছে অভাবীতে পূর্ণ। যে যত পায় সে আরও চায়। বাকিরা খেয়েছে কিনা, খাবার পাবে কোথায়; এই খোঁজ রাখি না। ইনকামের কথাটাও এটার দ্বারা বোঝায়।
তাঁরা পদোন্নতির পেছনে ছুটে, আর আমরা বেকার; অথচ তাঁরা আমাদেরই ভাই। আমাদের দেশ না খেয়ে মরে, আর আমরা দেখি বিদেশিরা আমাদের দেশে কাজ করে যায়। তাদেরকে নিয়োগ কে দেয়?
আমাদের দেশে পদ্মা সেতু বানানো হয় অন্য দেশের ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা, আর আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা সেই সেতুর পিলার গোনে। বাধ্য হয়ে এটা করে। আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা টাকার অভাবে মরে। আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা তেমন দক্ষ হতে পারে না, যেমনটা হতে পারে অন্য দেশের ইঞ্জিনিয়ার। এর কারণ কী?
আমাদের দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়, আর আমরা চাঁদাকে সমঝোতা বলি। চেতনা ধুয়ে পানি খেয়ে আমাদের দিন যায়। আমরা বাঘের মতো বাঁচতে পারি না। হ্যাঁ, চেষ্টা বাঘের মতো হিংস্র হতে আর একটা মেয়েকে ধর্ষণ করতে।
আমরা অন্ধ। আমরা মেধাবী, পরিশ্রমী বা যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে নিতে পারি না। চোখের সামনেই থাকে, তবু তাদের কদর করি না। কদর কাকে করি? আমাদের ভাবনা: তাকে নিয়োগ দিয়ে আমার লাভ কী? তার চেয়ে যার কাছ থেকে কিছু পাব, তাকেই দেব।
আমি বলি, তাদের দিলে তো দেশ পেত। তখন সবার জীবনই সহজ হতো।
আমরা দান করব, তবু যারা দান পাওয়ার যোগ্য তাদের দান না করে আমরা তাদের দান করি যাদের ইনকামের ব্যবস্থা আছে, পাশে থাকার কেউ আছে।
আমরা নিজেদের গ্রামের সন্তানদের চিনতে পারি না। অন্য গ্রামের সন্তানরাই আমাদের গ্রামকে শাসন-শোষণ করে।
এটা লজ্জা।