নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐতিহাসিক বদর দিবস এবং নবীকরিম (দ.)-এর ৩০তম পবিত্র বংশধর, মাইজভাণ্ডারীয়া তরীকার বৈশ্বিক রূপদানকারী, শায়খুল ইসলাম, হুযুর গাউসুল ওয়ারা, হযরত শাহসুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর পবিত্র আরবি চন্দ্রবার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষ্যে মাইজভাণ্ডার শরীফে "ইসলামে যাকাতের তাৎপর্য" শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ রমজান, শনিবার (৭ই মার্চ) বিকেলে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিল মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মাহফিলে হাজারও ভক্ত আশেকানদের সমাগম ঘটে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দরবারের বর্তমান সাজ্জাদানশীন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি’র চেয়ারম্যান হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ) বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক বদর দিবসে সংঘটিত বদর প্রান্তরে যুদ্ধ ছিল ইসলামের প্রথম জেহাদ। দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রজমান বদর প্রান্তরে এ ঐতিহাসিক জিহাদ সংঘটিত হয়ে মুসলমানদের বিজয় রচিত হয়েছিল। বদরযুদ্ধের মধ্যদিয়ে পবিত্র মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলাম তথা মুসলমানদের বিজয়ের ধারা সূচিত হয়। ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে আবু জেহেলের ১০০০ সুসজ্জিত বাহিনীর বিপরীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ৩১৩ জন সাহাবায়ে ক্বেরাম সাধারণ অস্ত্র নিয়ে আল্লাহ তায়ালার গায়েবী সাহায্যে আবু জেহেলের বিশাল বাহিনীকে পর্যদুস্ত করেছিলেন অত্যন্ত কঠিনভাবে। তাই আমরা বদরি সাহাবাদের মত খাঁটি মুসলমান ও ঈমান ওয়ালা হতে পারি, বদরি চেতনায় উজ্বিবিত হয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বর্তমান যুবসমাজের কাছে এই দিনের তাৎপর্য তুলে ধরা খুবই গুরুুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রিয় নবিজী (দ.)-এর প্রতি সাহাবীদের (রাঃ) ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। রাসুলে পাক (দ.)-এর জন্য জীবন দিতেও তারা দ্বিধাগ্রস্থ হননি। তাই যখন মুসলিমদের ওপর কাফিররা জোরপূর্বক অসম এক যুদ্ধ চাপিয়ে দিল, তখনই সাহাবীরা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বদর প্রান্তরে নিজেদের রক্ত ঝরিয়েছেন। বাহ্যিকভাবে মুসলিম বাহিনীর শক্তি কম হলেও সাহাবীদের (রাঃ) ঈমানী দৃঢ়তা ও নবীপ্রেমই ছিল বদর যুদ্ধ বিজয়ের মূল শক্তি। মহান আল্লাহ্ তা'য়ালার বিশেষ সহায়তায় প্রিয় নবিজী (দ.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ইসলামের এ প্রথম যুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। বদর যুদ্ধ এটাও প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহ্ তা'য়ালার সাহায্য ঈমানদার তথা প্রিয় নবিজী (দ.)-এর প্রতি যারা ভালোবাসা রাখে, তাদের নিকটবর্তী।’
আরবি চন্দ্র বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষ্যে বক্তৃতাকালে নিজ পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘শায়খুল ইসলাম, ইমামে আহলে সুন্নাত হযরত শাহসুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) সমগ্র বিশ্বে 'তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া'র প্রচার প্রসারের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতির জন্য কাজ করেছেন। জাতিসংঘ, ইউনেস্কোসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রিয় নবিজী (দ) এর আদর্শ ও ভালোবাসার বাণী প্রচার করেছেন। অগণিত মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খানকাহ্ শরীফ, দাতব্য সংস্থা স্থাপন করে তাসাউফ চর্চায় দ্বীন ও মানবতার খেদমতে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘হযরত শাহসুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট বর্তমানে অর্ধশতাধিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি 'তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া'র সংস্কার করেছেন এবং বৈশ্বিক রূপদান করেছেন। তাঁর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকার জন্য তিনি বিভিন্ন খ্যাতিমান সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে 'বিশ্বশান্তির দূত', 'শায়খুল ইসলাম', 'তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়ার দিকপাল' প্রভৃতি বিরল উপাধি অর্জন করেছেন। তিনি মানুষকে দিয়েছেন আলোকিত পথের সন্ধান। তার পদচিহ্ন অনুসরণের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহ্ ও তার প্রিয় হাবীব (দ) এর সান্নিধ্য অর্জনের পথ খুঁজে পাবো।’
ইসলামে যাকাতের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে এসময় বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইসলামি অর্থনীতি তথা প্রিয় নবিজী (দ.) প্রণীত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হল যাকাত। যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে, তাদেরকে অবশ্যই তা যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। যাকাত আমাদের সম্পদের ওপর দরিদ্রদের অধিকারের অংশ। এটা কারো করুণা বা দান নয়। দরিদ্রদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা জুলুম। মহান আল্লাহ্ জুলুমকারীদের পছন্দ করেন না।’
সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী আরোও বলেন, ‘যাকাতের নির্ধারিত অর্থ যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রদান করতে হবে, যাতে এর প্রকৃত দাবিদাররাই তা পেয়ে উপকৃত হন। যাতে তারা দারিদ্র্য ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন। ইসলামের এ নীতি অনুসরণ করলে সমাজে দারিদ্র্য ও ধনি-গরিবের বৈষম্য থাকবে না। আমাদের শাসকগোষ্ঠী দারিদ্র্য বিমোচনে ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে নানাবিধ উদ্যোগ নিচ্ছে। অথচ যাকাতই এর একমাত্র সমাধান। মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা ও প্রিয় নবিজী (দ.) প্রদত্ত বিধান অনুসরণের মাঝেই মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিহিত।’
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ মইনুদ্দীন আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী, বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম বশির ভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসুফি মাওলানা শামসুল ইসলাম সানজারী মাইজভাণ্ডারী, খ্যাতিমান ওলামা মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের খলিফাবৃন্দ, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সদস্যবৃন্দ, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এসময় সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
মিলাদ কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভাণ্ডারী।