মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আলী হোসেনের জানাজা সম্পন্ন: হাজারো মানুষের শোকাতুর বিদায় কবিতাঃ সুখের প্রকোষ্ঠ নিয়ামতপুর-১ ও মান্দা-২ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নতুন এলাকা পরিচালক মুশফিকুর রহমান একটি মিসাইল সব বিশ্বাস নাড়িয়ে দিচ্ছে কবিতা: চরিত্র- কলমে: শিরিনা আক্তার পাওয়া – না পাওয়ার মাঝখানে কবিতাঃ আমি মানবী! ফরিদপুরে ইমাম প্রফেসর ড.কুদরত এ খোদা হুজুরের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে মোরেলগঞ্জে মিষ্টি ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা মোরেলগঞ্জে ১ দিনব্যাপী জিএপি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত: নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

একটি মিসাইল সব বিশ্বাস নাড়িয়ে দিচ্ছে

Coder Boss
  • Update Time : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৫ Time View

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

রাতের আকাশে হঠাৎ এক আগুনের রেখা ছুটে যায়। কয়েক সেকেন্ডের শব্দ, কয়েক মুহূর্তের বিস্ফোরণ।আর তারপরই কেঁপে ওঠে মানুষের বহুদিনের বিশ্বাস, নিরাপত্তার ধারণা, সভ্যতার অহংকার। একটি মিসাইল কেবল একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে না। সে আঘাত হানে মানুষের সেই বিশ্বাসে, যে পৃথিবী নাকি ক্রমশ আরও মানবিক হচ্ছে।

আমরা বহুদিন ধরে শুনে এসেছি—সভ্যতা এগোচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষকে শান্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব একদিন সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ হবে। কিন্তু বাস্তবের আকাশে যখন একটি মিসাইল ছুটে যায়, তখন সেই সব তত্ত্ব হঠাৎ খুব ভঙ্গুর মনে হয়। কারণ একটি বোতাম চাপলেই যে আগুনের নদী নেমে আসতে পারে, সেই সত্য আমাদের সব আত্মবিশ্বাসকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

একটি মিসাইল মানে কেবল যুদ্ধের অস্ত্র নয়; এটি ক্ষমতার ভাষা। এটি বলে দেয়—মানুষ এখনো শক্তির প্রদর্শনেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে। কূটনীতির টেবিলে যত কথাই হোক, শেষ পর্যন্ত আকাশে উড়ে যাওয়া একটি মিসাইলই যেন চূড়ান্ত যুক্তি হয়ে ওঠে। সভ্যতার সমস্ত আলোচনার উপর দিয়ে তখন ভেসে ওঠে ধ্বংসের এক কঠিন শব্দ।

এই পৃথিবীতে অদ্ভুত এক দ্বৈততা রয়েছে। একদিকে বিজ্ঞানীরা নতুন ওষুধ আবিষ্কার করছেন। রোগ সারানোর পথ খুঁজছেন। মহাকাশের রহস্য উন্মোচন করছেন। অন্যদিকে একই বিজ্ঞান এমন অস্ত্রও তৈরি করছে, যা কয়েক মুহূর্তে একটি শহরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। ফলে প্রযুক্তি আমাদের যেমন বাঁচায়, তেমনি আমাদের অস্তিত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

একটি মিসাইল যখন ছুটে যায়, তখন কেবল সামরিক ঘাঁটি বা ভবনই ধ্বংস হয় না; মানুষের মনে জমে থাকা নিরাপত্তার বোধটাও ভেঙে যায়। আমরা বুঝতে পারি, আমাদের চারপাশের পৃথিবী আসলে কতটা অস্থির। যে সভ্যতাকে আমরা এতদিন অটল মনে করতাম, তার ভিতও যে কত নরম— সেটা হঠাৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আর সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হল, এই মিসাইলের আঘাত কখনো শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর অভিঘাত পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ঘরেও— ভয়ের মাধ্যমে, অর্থনৈতিক সংকটের মাধ্যমে, অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়ার মাধ্যমে। একটি বিস্ফোরণের শব্দ দূর দেশে হলেও তার প্রতিধ্বনি বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

তাই একটি মিসাইল কেবল ধ্বংসের প্রতীক নয়; এটি আমাদের সময়ের এক কঠিন প্রশ্নও। প্রশ্নটি হল—মানুষ কি সত্যিই সভ্য হয়েছে, নাকি আমরা শুধু ধ্বংসের প্রযুক্তিটাকেই আরও আধুনিক করে তুলেছি?

রাতের আকাশে যখন সেই আগুনের রেখা দেখা যায়, তখন মনে হয়— পৃথিবী এখনও সেই পুরোনো দ্বন্দ্বেই আটকে আছে। শান্তির স্বপ্ন আর শক্তির অহংকারের মধ্যে লড়াই চলছে। আর সেই লড়াইয়ের মাঝখানে একটি মিসাইল কখনো কখনো আমাদের সব বিশ্বাস নাড়িয়ে দেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102