
কলমেঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
আমি নারী, একটা বিন্দু
তুমি ছুয়ে দিলে হবো বৃত্তাবর্ত, মহাসিন্ধু!
তোমার ছোঁয়া পেলে হবো নিঃস্বীম দিগন্ত
তুমি জলাধার হবে আমি মৎস্য কণ্যা অনন্ত!
ধরিত্রীর সব শৃঙ্খল ভেঙে তোমার কাছে আসতে চাই
আমি গ্রীক দেবী ‘হেস্টিয়া’ হবো তোমায় যদি পাই!
তোমায় নিমগ্ন হয়ে স্ব জৌলুস চিরকাল বিসর্জন দেবো!
নির্মোহ এ ধরায় অমিশ্রতা এক জীবন গাছের ছায়ায় বেছে নেব!
নদীর তীরে গাঙচিলের আনাগোনায় বাঁধবো একখানা ঘর
চাঁদের জোছনা, জেলের মাছ ধরার ঝপাৎ শব্দ হবে আপন, আর সব পর!
বেড়াতে যাবো তোমার পূর্বপুরুষের মাটির দেয়ালের সেই ঘরে
কানায় কানায় জল ভর্তি খাল, পাড়ে বাঁশ জাড়, যেথা জোনাকির আলো জ্বলে সন্ধ্যার পরে!
খালের জলে সাঁতার কাটে ন্যাংটা অনেকগুলো ছেলে
উঠানে লাল মরিচ শুকাতে দেয় খেজুর পাটি মেলে!
তোমার গল্প করা দাইমা ফুফু, মাটির গামলায় ধবলির দুগ্ধ করে দহন
দেবর নদের সাথে ডাঙায় কলাই ক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি, প্রখর রৌদ্র হয়তো যাবে না বেশিক্ষণ সহন!
এমন পরিবেশে দিও আমায় ভুলিয়ে যত বিগত বিলাসবহুল জীবন অভ্যাস
আমি ভুলতে চাই সবকিছু, যাতে তোমার মনে না থাকে ধনী-গরিব ক্লেশ!
ভুলতে চাই মেকি বংশ গর্ব অহং, আশরাফ-আতরাফ উঁচুনিচু ভেদাভেদ —
হোক তোমার আমার জীবন শ্বেতশুভ্র, অহংকার হীন সফেদ!