কলমে: শিরিনা আক্তার
কবিতা যখন হৃদয়ের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে,
তখন খাতার সাদা পাতায় আর কী-ই বা লিখি!
শব্দগুলো নিজেই এসে বসে
অদেখা এক অনুভূতির দোরগোড়ায়।
সেই বসন্তের আগমনে
মনের ভেতর অদ্ভুত এক ছুটাছুটি—
নক্ষত্র থেকে নক্ষত্রে,
দিগন্ত থেকে আরও দূর দিগন্তে।
অনুভূতির ভাঁজে ভাঁজে
অগণিত না-বলা কথা
নীরবে সাজিয়ে রাখি আমি।
নিভৃত কোনো ক্ষণে
শুনি তাদের সুমধুর ডাক,
মনে হয় যেন
শব্দেরা চুপিচুপি তোমার কথাই বলে।
সব কথা গুছিয়ে রেখেছি
একটি ছোট্ট এনভেলাপের ভেতর।
ভাবি—
কোনো একদিন যদি হঠাৎ দেখা হয়,
তোমার হাতে তুলে দেব সেই চিঠি।
কিন্তু তুমি দেখতে কেমন?
কবির কল্পনায় ঝরে পড়া রূপালী চাঁদের মতো?
নাকি জ্যোৎস্না রাতের স্নিগ্ধতায় মোড়া
নীরব কোনো স্বপ্নচারী?
কখনো কি চাঁদের কলঙ্কের মতো
অলস আর আলুথালু রূপে ভেসে ওঠো?
আবার কখনো
ঝাউগাছের দোলানো ডালে ভেসে যাওয়া বাতাসের মতো
দিগবিদিক ঘুরে বেড়াও—
আর অদৃশ্য স্পর্শে
দোল দিয়ে যাও মনে।
তারপর—
দিন কেটে যায়,
সময় নীরবে গড়িয়ে পড়ে।
অসংখ্য বিনিদ্র রজনী পেরিয়ে যায়,
তবু তোমাকে খুঁজে পাই না কোথাও-
সেই এনভেলাপ
আজও তোমার হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
তার ভেতরের চিঠিটা এখন
অনেক বড় হয়ে গেছে—
জীবন নদীর মতো দীর্ঘ,
অনুভূতির স্রোতে ভরা।
সেই চিঠি লিখেছি
কবিতার ভাষায়।
আজ তাকে ভেলায় তুলে
নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিলাম।
ভাসতে ভাসতে যদি কোনোদিন
সে পৌঁছে যায় তোমার দুয়ারে,
ভুল করেও যদি হাতে তুলে নাও—
তবে দেখবে,
আমার প্রতিটি শব্দে,
প্রতিটি অনুভূতিতে,
প্রতিটি কবিতার গভীরে
শুধুই তুমি।