বিবেকের কাছে প্রশ্ন
শীতের হাওয়ায় কাঁপছে আকাশ, কাঁপছে ধরণীর বুক,
একপাশে হাসে বিলাসিতা আর, অন্যপাশে শুধু দুখ। রঙিন আলোয় সাজানো শহর, হীটার জ্বলছে ঘরে,
পথের ধারে মানুষগুলো যে, শীতে ধুঁকে ধুঁকে মরে।
তোমার পুরনো চাদরটি হয়তো, কারো হবে পরম দান,
একটু মমতা বাঁচাতে পারে যে, একটি নিভে যাওয়া প্রাণ।
নিজের সুখের স্বর্গ গড়ে কি, পাওয়া যায় কোনো তৃপ্তি?
অসহায় মুখে হাসি ফোটালে, বাড়ে আত্মার দীপ্তি।
উষ্ণতাটুকু ভাগ করে নাও, বাড়াও সেবার হাত,
ক্ষুধার্ত যেন না থাকে কেউ, কাটে যেন ভালো রাত।
ধর্ম-বর্ণ ভুলে গিয়ে আজ, এসো হই সব এক,
মানুষের তরে মানুষই জাগুক— এই হোক মূল বিবেক।
অহংকারের অবসান
মাটির মানুষ মাটির দেহ, কেন এত অহংকার?
আজ আছ ভাই দাপট নিয়ে, কাল যে অন্ধকার।
উঁচু শির তুলে চলো যে পথে, তুচ্ছ ভাবো সবারে,
মনে রেখো এই বৃথা দম্ভ, ডুবাবে ঘোর পাথারে।
বড় বড় বীর রাজ্য জিনেও, মিশেছে মাটির তলে,
অহংকারীর নাম মুছে যায়, কালের চোখের জলে।
নদীর স্রোতে যেমন ভাঙে, শক্ত মাটির পাড়,
দম্ভ নিয়ে আকাশ ছোঁয়াও, পতনেরই পূর্বাভাস তার।
নম্র হয়ে চলো তবে, মানুষ যদি হও—
অহংকারের বোঝা ফেলে, ভালোবাসা বুকে লও
মাটির পৃথিবীতে মাটির হয়ে, থাকো সবার পাশে,
অহংকারের পতন নিশ্চিত, বিফল অট্টহাসে।
সবার আগে মনুষ্যত্ব
বিত্তের দম্ভে অন্ধ হয়ে, খুঁজছ কিসের মান?
মানুষের ব্যথায় না জাগলে, বৃথা তোমার প্রাণ।
উঁচু অট্টালিকা, দামী পোশাক, সব হবে ছাই,
মানুষের তরে মানুষ না হলে, কোনো পরিচয় নাই।
কাকে তুমি করো ঘৃণা, কাকে করো হেয়?
সবার রক্ত লাল যে ভাই, মনে রাখা শ্রেয়।
মানুষের চোখের জল মুছে দাও, হাতটি বাড়িয়ে ধরো,
মমতা আর ভালোবাসা দিয়ে, বিশ্ব আপন করো।
মসজিদ-মন্দির-গির্জা আছে, আছে ধর্ম বহু—
সবার উপরে সত্য যে এক, একই মানুষের লহু
মনুষ্যত্বই আসল ধর্ম, এর চেয়ে বড় কিছু নেই,
সবার আগে মানুষ চিনো— মুক্তি পাবে তাতেই।