
শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, স্টাফ রিপোর্টার:
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সচেতনতামূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে জগন্নাথপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ব্যতিক্রমধর্মী স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করছে ব্র্যাক। কর্মসূচির আওতায় গত বছর থেকে প্রতি তিন মাস অন্তর মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দিতে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘ইমার্জেন্সি রেসপনসিবিলিটি গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্রতিরোধ” শীর্ষক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিসিএইচ কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল খাঁন, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ডা. তানজিম হোসেন এবং উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা মোহাম্মদ আলী খাঁন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক গীতা রানী দেবনাথ,সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ ফয়জুন্নেসা বেগম, মোছাঃ জেরিন আক্তার ,মোছাঃ দিলরুবা প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ লাকু মিয়া,সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মোঃ আলিম উদ্দিন, মদ্দিনুল ইসলাম, শক্তি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি এবং সমাজসেবক মশাহিদ শিকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।এসব রোগ প্রতিরোধে কাপড়-চোপড় জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশীয় শাকসবজি,দেশি মাছ, মুরগি ও ডিম নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি শিশুদেরও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর কৃমিনাশক ওষুধ সেবন, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার এবং দুর্যোগকালীন সময়ে ব্র্যাকের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু থাকলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের পাশাপাশি ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় ব্র্যাকের কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন,উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত রোগের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর বাহক ধ্বংসে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,অন্যান্য উপজেলার তুলনায় জগন্নাথপুরে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি অনেক এগিয়ে রয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, সমাজসেবক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতার কারণে এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।