
শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, কবি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
ইসলাম ধর্মে পবিত্র রমজান মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। এটি কেবল একটি মাস নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও আল্লাহভীতির এক অনন্য শিক্ষালয়। মহান আল্লাহ তাআলা এই মাসকে বান্দার আত্মিক উন্নতি ও নৈতিক পরিশুদ্ধির জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করেছেন। রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজের অন্তরকে পবিত্র করার সুযোগ লাভ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালায়।
রমজানের রোজা মানুষের ভেতরে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি জাগ্রত করে। সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে একজন রোজাদার তার নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। এভাবে আত্মসংযমের মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে নৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই মাস মানুষকে লোভ-লালসা ও পাপাচার থেকে দূরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে এবং তাকে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ জীবনের পথে পরিচালিত করে।
রমজান মাস ধৈর্য ও সহনশীলতার এক মহান প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র। সারাদিনের উপবাস মানুষকে ধৈর্যশীল হতে শেখায় এবং রাগ-ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে এটি মানুষের হৃদয়ে সহানুভূতি ও মানবিকতার বীজ বপন করে। যখন একজন মানুষ ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে, তখন সে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। ফলে তার মনে দান-সদকা, যাকাত ও মানবসেবার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এইভাবেই সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে।
এছাড়া রমজান মাস মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়। সেহরি ও ইফতারের নির্দিষ্ট সময় অনুসরণ করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং ইবাদতের জন্য সময় নির্ধারণ করা—এসবের মাধ্যমে একজন মুসলমান সময়ের সঠিক ব্যবহার ও নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
রমজান হলো ইবাদতের মাস। এ মাসে মুসলমানরা মিথ্যা, গীবত, অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। কুরআন তিলাওয়াত, তারাবির নামাজ, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজেদের জীবনকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। ফলে এই মাস মানুষের অন্তরকে পবিত্র করে এবং তাকে সৎ ও নৈতিক জীবনের দিকে পরিচালিত করে।
সর্বোপরি বলা যায়, পবিত্র রমজান মাস মানুষের জীবনে এক মাসব্যাপী আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এই মাসে অর্জিত সংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা যদি মানুষ সারা বছর ধরে জীবনে ধারণ করতে পারে, তবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবক্ষেত্রেই কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, রমজান আমাদেরকে আত্মসংযম, ধৈর্য, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার সিয়াম ও ইবাদত কবুল করুন এবং আমাদেরকে নেক জীবন দান করুন। আমিন।