
লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন কে অনুরোধ করেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ মিটিয়ে দেয়ার জন্য, বোনাস হিসাবে রাশিয়া থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন, আরো কিছু শর্ত মেনে নিবেন বলেছেন!
প্রিয় পাঠক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালের
২০ শে নবেম্বর জার্মানির বিরুদ্ধেে “মানতা ও শান্তির” বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য নুরেমবার্গ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়! একই ভাবে জাপানের বিরুদ্ধে “টোকিও ট্রাইব্যুনাল” গঠন করে প্রচুর জরিমানা ও শর্ত আরোপ করা হয়! জাপানে মানবতা বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা মেরে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ মিনিটে হত্যা করেছিলো আমেরিকা! অথচ জরিমানা করা হলো জাপান জার্মান ইতালি কে! আজ-ও সে সব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাটি রয়ে গেছে তাদের পাহারা দেয়ার জন্য! আমি বার-বার আপনাদের মনে করাই, “জাপানের জরিমানা অর্ধেকে নেমে এসেছিল বাঙালি বিচারপতির নো গিল্টি বলার মত স্পর্ধা দেখানোর জন্য! এগারো জন বিচারপতির মধ্যে কুষ্টিয়ার ছেলে বিচারপতি “বিনাদ বিহারি” বলে ছিলেন, Japan is not GUILTY, being the Accuser (complainant) America is not neutral and that’s why He has no right to form any Court for any Judgment!
ঘাবড়ে গিয়েছিলেন অন্য দশজন বিচারক! তাদের নমনীয়তায় জরিমানা অর্ধেকে নেমে আসে! আজ-ও বাঙালি কে জাপান মনে রেখেছে এবং টোকিও সিটিতে বিনোদন বিহারির স্টাচু আছে দন্ডায়মান!
পাঠক, ওয়াশিংটন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আমেরিকার কাছ থেকে ইরানের সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি আদায় করা উচিত। ফিলিস্তিন স্বাধীনতা সহ গাঁজার ইসরায়েল কতৃক অধিকৃত জায়গাগুলো যেখানে হাজার হাজার বসতি স্হাপন করেছে ইসরায়েল, সব ফেরত নেয়া প্রয়োজন! দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে কয়েক লাখ ফিলিস্তিন হত্যা করানো হয়েছে ইসরায়েল কে মাঠে নামিয়ে! ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমণ ও ছিলো মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন বহির্ভূত! এক দিকে ইরানের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে অন্য দিকে আক্রমণ করানো মানবাধিকার লঙ্ঘন! বাচ্চাদের স্কুলে বোম্বিং করে ১৭৫ জন শিশু হত্যা সমস্ত নিয়মনীতির বিরুদ্ধে! কোন দেশ কি অস্ত্র কিনবে, পরমাণু বোমা বানালে আমেরিকার অনুমতি লাগবে কেন, পরমাণু কাচামাল ইউরেনিয়াম জমা করতে আমেরিকার অনুমতি কেন প্রয়োজন হবে? বাংলাদেশের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে তিনবার ভিজিটর পাঠানো হয়েছে, প্রতিবারই অনেক কঠিন শর্ত মেনে বিগত সরকার ইউরেনিয়াম কেনার অনুমতি পেয়েছে। হয়তো ইরানের মত আজ বাংলাদেশ ও পরমাণু অস্ত্রে সমৃদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালাতো! এতোসব বুঝতে পেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থিংট্যাঙ্ক ২৯ মিলিয়ন বিনিয়োগ করে বিগত সরকার কে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলো, সরকার ও আহম্মক ছিলো, ঘরের নিকটজন সব বিক্রি হয়েছে তা বুঝতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা, তা অস্বীকার করা অন্যায়! ফিদেল কাস্ত্রো কে ৬৩০ বার পদক্ষেপ নিয়েও মার্কিন সিআইএ হত্যা করতে পারে নাই! বাংলাদেশে ১৯৭৫ থেকে ২০২৪ সাল, প্রথম বারেই সিআইএ কৃতকার্য হয়ে গেছে!
পাঠক, আজ “হরমুজ প্রনালী” বন্ধ করায় কাচা তেল ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার থেকে ১২০ ডলারে উঠে গেছে! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাচাটা দালাল মুসলমান নামধারীরা তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছে! ইসরায়েল পরমাণু বোমা বানায় আর এ-সব মুসলমান রাষ্ট্রের রাজা-বাদশা শেখেরা টয়লেটের “মল নিঃস্বরন হাই কমোড” স্বর্ন দিয়ে তৈরি করে! তাদের গাড়ী, বক্তিগত বিমান, বিমান থেকে নামার সিঁড়ি স্বর্ন দিয়ে তৈরি! কেউ আবার মালদ্বীপের সম্পূর্ণ দ্বীপ ভাড়া নিয়ে বিদেশি কয়েক শত নর্তকী নিয়ে আমোদ ফূর্তি করে মাস ব্যাপি! আফ্রিকা এশিয়ার মুসলমানরা ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে অনাহারে বিনা ঔষধ পথ্যে মারা যায়! একটা ইহুদি রাষ্ট্র ৫৭ মুসলমান রাষ্ট্র কে কানে ধরে উঠবস করায়, একমাত্র ইরান ছাড়া!
ধর্মের পাশাপাশি বিজ্ঞান শিক্ষা কি হারাম, বাংলাদেশের আরবি শিক্ষিতরা এমন-ই মনোভাব পোষণ করে! নবী করীম সঃ এর মেসওয়াক দাড়ি-টুপি সুন্নত কিন্তু তার তরবারি সুন্নত নয় কেন?
জয় তু ইরান, তুইই একমাত্র মুসলমান!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন!