জামির হোসেন, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে বিএনপির নেতা এম এ হাসান-কে দেখতে চান স্থানীয় দলের অনেক নেতা-কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) খুলনা জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই এম এ হাসান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি অতীতে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দল ও সংগঠনের জন্য কাজ করার কারণে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে তার একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি হয়েছে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় থেকে দলের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিক মামলা, কারাবরণ ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি এবং নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন।
কয়রা সদর ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, দলের কঠিন সময়ে এম এ হাসানকে সব সময় পাশে পাওয়া গেছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি অবগত। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে দেখতে আগ্রহী অনেকেই।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন এম এ হাসান। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নদী ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কার্যক্রমেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া মহামারি COVID-19 চলাকালীন সময়ে নিজ উদ্যোগে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করে মুমূর্ষু রোগীদের সহায়তা করেছেন তিনি। অনেক অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতায়ও এগিয়ে এসেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এম এ হাসানকে একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।
এ বিষয়ে এম এ হাসান বলেন,
দলের আদর্শে বিশ্বাস রেখে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় এবং জনগণ পাশে থাকে, তাহলে কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সেবা এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।