
কলমে: শিরিনা আক্তার
এক অনন্য বার্তা—
আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধির পবিত্র সাধনা,
ধৈর্যের আলোয় জাগে হৃদয়ের আভরণ,
এই মহিমান্বিত উপলব্ধির নামই ঈদ জাগরণ।
রমজানের দীর্ঘ সংযম শেষে
হৃদয়ের আকাশে ওঠে পূর্ণিমার চাঁদ,
তার নির্মল আলোয় ধুয়ে যায় ক্লান্তি,
মন ভরে ওঠে শান্তি আর অবসাদহীন সাধ।
নেমে আসে প্রশান্তির মৃদু পরশ,
ত্যাগের আলোয় জাগে মানবতার রেশ,
ধৈর্য আর ভালোবাসার দীপ্ত স্পর্শে
জেগে ওঠে হৃদয়ে সহমর্মিতার আবেশ।
ঈদ শুধু উৎসবের হাসি নয়,
এ এক মমতার পবিত্র আহ্বান;
মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে
গড়ে ওঠে হৃদয়ের নতুন জয়গান।
ঈদ শেখায় সাম্যের মধুর বাণী—
ধনী-গরিব ভেদ যেন মুছে যায়,
উঁচু-নিচু সব বিভেদের প্রাচীর
মানবতার আলোয় ধীরে ধীরে ভেঙে যায়।
কোলাকুলির উষ্ণ আলিঙ্গনে
মিশে থাকে আপন হওয়ার সুর,
হৃদয়ের গভীরে জেগে ওঠে
মমতার দীপ্ত অনুরণন ভরপুর।
ঈদের সত্য চেতনা এই—
আনন্দ শুধু প্রাসাদে সীমাবদ্ধ নয়,
দরিদ্রের কুটিরেও জ্বলে উঠুক
হাসি আর আশার উজ্জ্বল জয়।
অভাবের দীর্ঘশ্বাস মুছে যাক,
মানুষ দাঁড়াক মানুষের পাশে,
সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে
আলো ছড়িয়ে পড়ুক ভালোবাসার আশে।
এই মহৎ পথের অন্যতম দিশা—
যাকাত আর ফিতরার পবিত্র দান,
ক্ষুধার্তকে অন্ন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র
এভাবেই পূর্ণ হোক ঈদের সম্মান।
যেন ভুলে যায় তারা ক্ষুধার যন্ত্রণা,
ভুলে যায় বঞ্চনার দুঃসহ স্মৃতি,
আনন্দের উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠুক
তাদের জীবন, তাদের প্রতিটি প্রীতি।
রমজান শেখায় ক্ষুধার অনুভব,
শেখায় তৃষ্ণার গভীর বেদনা;
অসহায়ের নিত্যদিনের কষ্ট
জাগিয়ে তোলে হৃদয়ে সহানুভূতির চেতনা।
তাই হও দানশীল, উদার হও,
হৃদয়ে ধারণ করো মানবপ্রেম;
মানুষের দুঃখ লাঘবের পথেই
জেগে উঠুক জীবনের মহৎ নেম।
তবেই ঈদ হয়ে উঠবে
মানুষে মানুষে মিলনের মেলা,
ভালোবাসা আর সহমর্মিতার
সুরে সুরে ভরে উঠবে ধরণী খেলা।
রচিত হবে নির্মল এক সমাজ,
যেখানে থাকবে ন্যায় আর মানবতার সুর;
প্রতিটি হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হবে
আনন্দ, সহমর্মিতা আর শান্তির নূর।
সাম্যের সেই চিরন্তন আহ্বানে
জেগে উঠুক নতুন আলোর দিশা—
মানবতার দীপ্ত আলোয় উদ্ভাসিত
হোক আমাদের প্রিয় পৃথিবীটা।