মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

দিরাই–শাল্লা নিয়ে সমালোচনার ঝড়, দুঃখ প্রকাশ ছাত্রনেতা তানভীর চৌধুরীর

Coder Boss
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থামছে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে দিরাই–শাল্লার জনগণকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী। তিনি দিরাই–শাল্লার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান বলেও উল্লেখ করা হয়।

ফেসবুক পোস্টে তানভীর চৌধুরী বলেন, দিরাই–শাল্লা এখন সারা বাংলাদেশের আলোচনা-সমালোচনার একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়, রাস্তাঘাট, গাড়ি কিংবা চায়ের টেবিল—সব জায়গায় দিরাই–শাল্লা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেহেতু এটি তার নিজের এলাকা, তাই এসব আলোচনায় এলাকার মানুষকে বিশেষভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজাকার ইস্যুকে ঘিরে চলমান বিতর্কই মূলত এই আলোচনার বড় কারণ। বিশেষ করে কলুন্জ ইউনিয়নের এক কুখ্যাত রাজাকার ও তার পরিবারকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি আটগ্রাঁও ইউনিয়নকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা ধরনের ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে।

তানভীর চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তেমনি কিছু মানুষ শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিল বা রাজাকারদের সহযোগিতা করেছিল—এটি একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা, যা শুধু দিরাই–শাল্লা নয়, সারা বাংলাদেশেই ছিল।

তিনি আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে বর্তমানে এই ইতিহাস অনেক সময় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রাজাকারের সন্তানরাই অন্যদের রাজাকার বলে আখ্যা দেয়। কেউ আওয়ামী লীগে থাকলে এক ব্যাখ্যা, কেউ বিএনপিতে থাকলে আরেক ব্যাখ্যা—এভাবে রাজাকার ট্যাগ দিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করা এখন প্রায় সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের রাজনীতিতে এ ধরনের বিভাজন সমাজে আরও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। দিরাই–শাল্লার রাজনীতিতেও বিভিন্ন সময় দুই দলের নেতাদের ঘিরে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও অভিযোগ উঠেছে।

তানভীর চৌধুরী প্রশ্ন তুলে বলেন, এসব বিতর্ক দিয়ে কি এলাকার উন্নয়ন সম্ভব? তিনি মনে করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে সম্মান করা সবার দায়িত্ব। তবে যদি সেই ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে শুধু বিভাজন তৈরি করা হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতি হবে এলাকার ও দেশের।

তিনি বলেন, দিরাই–শাল্লা একটি অবহেলিত ভাটি অঞ্চল। অতীতে সাতবার একজন মুক্তিযোদ্ধা এমপি নির্বাচিত হলেও এলাকার উন্নয়ন, অগ্রগতি ও শিক্ষার মানে তেমন পরিবর্তন আসেনি বলে তিনি দাবি করেন। ফলে আজও অঞ্চলটি অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।

তানভীর চৌধুরী মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার বিতর্ক দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং এতে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ ও কাদা ছোড়াছুড়িই বাড়ে।

সবশেষে তিনি বলেন, অবহেলিত এই ভাটি অঞ্চলকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে হলে ঐক্য, সত্য ও ন্যায়ের পথে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102