আমির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:
ঈদের দিন মানেই আনন্দ, হাসি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলনের মুহূর্ত। কিন্তু সেই আনন্দঘন দিনেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নেমে এলো হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। নানার বাড়ি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে খেয়া নৌকায় উঠেছিল ৯ বছরের শিশু সুফিয়া বেগম। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠলো তার জীবনের শেষ যাত্রা—নদীর মাঝখানেই নিভে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণের আলো।
জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় গ্রামের বাসিন্দা সতু মিয়ার মেয়ে সুফিয়া বেগম (৯) ঈদের দিন বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে নানার বাড়ি গোটিলা যাওয়ার উদ্দেশ্যে লাউড়েরগড় খেয়া নৌকায় ওঠে। ঈদের আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিল ছোট্ট মেয়েটি। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দের পথই তাকে নিয়ে যাবে মৃত্যুর দুয়ারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ও চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ছোট্ট সুফিয়া আর ফিরে আসতে পারেনি জীবনের তীরে।
পরে নদীর পানিতে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ। ঈদের আনন্দঘন দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। একটি পরিবারে নেমে আসে অসীম শোক, আর লাউড়েরগড়সহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয়রা জানান, নৌকায় অন্য কেউ নিখোঁজ আছে কি না তা নিশ্চিত হতে নদী ও আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, নৌকা ডুবির ঘটনায় একজন শিশু মারা গেছে এবং একজন আহত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ নিখোঁজ নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঈদের দিনে এমন করুণ মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দ আর ভালোবাসার, সেই দিনটিই হয়ে উঠেছে একটি পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় শোকের দিন।