সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজার প্রাঙ্গণে ঈদ উৎসব অনুষ্ঠিত

Coder Boss
  • Update Time : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ Time View

 

স্টাফ রিপোর্টার
বিদ্রোহী The Nazrul, Centre, কাজী নজরুল সুফি সোসাইটি ও বাংলাদেশ ইসলামি সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে আজ ২১ মার্চ ২০২৬ ঈদের দিন বিকেল ৪ ঘটিকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজার প্রাঙ্গণে ঈদ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ এর শতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনা হিসেবে বিগত ৪ বছর ধরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন জাতীয় কবির মাজার প্রাঙ্গণে ঈদ উৎসব উদযাপনের ধারাবাহিকতায় আজ ঈদ উৎসব উদযাপন জাতীয় কমিটির আহবায়ক ও বাংলাদেশ ইসলামি সমন্বয় পরিষদের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ক্যান্সার গবেষক ও খ্যাতিমান চিকিৎসক অধ্যক্ষ ডাঃ এস এম সরওয়ার এর সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী এবিএম এরশাদ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ঈদ উৎসবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্রোহী The Nazrul Centre এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও কাজী নজরুল সুফি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান। বর্ণাঢ্য ঈদ উৎসবের উদ্বোধন করেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ এর মহাসচিব লায়ন মীর আবদুল আলীম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল একাডেমির সভাপতি ও সাবেক রাস্ট্রদূত মাসয়ূদ মান্নান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষক ও নজরুল সংগীত শিল্পী ডক্টর সিরাজুল ইসলাম, তর্কবাগীশ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ডক্টর হাবিবুর রহমান খান, বরেণ্য অভিনেতা ও লেখক এ্যাডভোকেট লূৎফর আহসান বাবু, বরেণ্য লেখক ও গবেষক শাহসূফি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদি, জনতার কথা বলে এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নাঈম হাসান, সংগঠক ও কবি মুহাম্মদ সেলিম রেজা সাংবাদিক আল আমিন রনি, মারুফ আহমেদ সহ নজরুল অনুরাগী কবি সাহিত্যক ও শিল্পীবৃন্দ। উৎসবে গান, কথা, কবিতা আবৃত্তি শেষে কবির মাজার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ উৎসবে বক্তারা বলেন সুফি নজরুলমানসে সাম্য ও সম্প্রীতির চেতনা অত্যন্ত প্রখর ছিল। অশান্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনায় সাম্য, সম্প্রীতির একটি মানবিক বিশ্ব গড়তে সকলকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের আকাশে কাজী নজরুল ইসলাম এক ধুমকেতুর নাম হলেও তিনি শুধু দ্রোহে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি ছিলেন সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবতার মূর্ত প্রতীক। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়াই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।
সূফি নজরুল বিশ্বাস করতেন মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই। তিনি উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন—
“গাহি সাম্যের গান— / যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান।”
তিনি মন্দির, মসজিদ বা গির্জার চেয়ে মানুষের হৃদয়কে বড় তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য করতেন। তাঁর মতে, স্রষ্টাকে খুঁজে পেতে হলে তাঁর সৃষ্টি অর্থাৎ মানুষকে ভালোবাসতে হবে।
নজরুল ছিলেন ধর্মান্ধতার ঘোর বিরোধী। তিনি হিন্দু ও মুসলমানকে একই বৃন্তের দুটি কুসুম হিসেবে দেখতেন। তিনি কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা চাননি, চেয়েছিলেন অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি, যেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকবে না। :
বর্তমান বিশ্বের হানাহানি, বর্ণবাদ, ধর্মান্ধতা দূর করতে নজরুলের আদর্শ সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
ঈদ উৎসবে আমরা শপথ নেই
যেকোনো ধর্মের বা বর্ণের মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করব।
নারী-পুরুষ ও ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে সমান অধিকার নিশ্চিত করবো,
ধর্মীয় গোঁড়ামি পরিহার করে পরমতসহিষ্ণুতা চর্চা করবো,
বক্তারা আরও বলেন নজরুল চেয়েছিলেন এমন এক সমাজ, যেখানে মানুষের পরিচয় হবে তার মানবতায়। আজ যখন পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত, তখন নজরুলের সাম্য ও সম্প্রীতির গানই হতে পারে আমাদের মুক্তির পথ। তাঁর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করলেই গড়ে তোলা সম্ভব একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102