
কলমে: শিরিনা আক্তার
একটি দিন—
ইতিহাসের অগ্নিপৃষ্ঠায় লেখা এক অমর অধ্যায়।
দীপ্ত শপথে জেগে ওঠা
একটি জাতির অবিনাশী চেতনা।
সালটি ১৯৭১।
২৫শে মার্চের সেই নিঃশব্দ কালরাতে
হঠাৎ নেমে এলো বিভীষিকার কালো ছায়া।
অমানবিক বর্বরতায় কেঁপে উঠল জনপদ,
রক্তে রঞ্জিত হলো বাংলার পথঘাট,
কান্নায় ভারী হয়ে উঠল আকাশ-বাতাস।
কিন্তু ভয়কে অস্বীকার করেছিল বাঙালি।
অন্ধকারের বুক চিরে
জেগে উঠেছিল প্রতিবাদের আগুন।
স্বাধীনতার স্বপ্ন তখন
হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়া এক জাগরণ।
বাংলার মানুষ তখন একত্র—
অদম্য সাহস আর অটল বিশ্বাসে বলীয়ান।
গ্রাম থেকে নগর, মাঠ থেকে জনপদ
এক সুরে উচ্চারিত হলো মুক্তির আহ্বান।
বীর সন্তানেরা শপথ নিল—
ভেঙে ফেলবে শোষণ আর অন্যায়ের শৃঙ্খল,
মুছে দেবে পরাধীনতার অপমান।
রক্ত, ত্যাগ আর আত্মদানের বিনিময়ে
গড়ে তুলবে স্বাধীন দেশমাতৃকা।
তরুণ, যুবক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক—
এদেশের সাধারণ মানুষ
নিজ নিজ জীবন ভুলে
ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির সংগ্রামে।
দীর্ঘ নয় মাসের কঠিন পরীক্ষায়
অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে
জন্ম নিল একটি নতুন ভোর—
একটি স্বাধীন রাষ্ট্র,
বাংলাদেশ।
ভেঙে গেল পরাধীনতার শিকল,
মুছে গেল বহু বছরের অপমানের দাগ।
তবু সময়ের প্রবাহে আজ
একটি প্রশ্ন হৃদয়ে ঘুরে ফিরে আসে—
স্বাধীনতার এত আলোয়
কেন এখনো কিছু অন্ধকার রয়ে যায়?
কেন মানুষের ন্যায্য অধিকার
সব সময় সমানভাবে পৌঁছায় না সবার কাছে?
কেন দারিদ্র্য আজও
সমাজের গভীরে ছড়িয়ে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস?
কেন শিক্ষার আলো কখনো
ব্যবসার হিসাবের কাছে ম্লান হয়ে পড়ে?
কেন অভাবের কষ্টে
অসংখ্য শিশুর শৈশব নিঃশব্দে হারিয়ে যায়?
কেন অসংখ্য তরুণ
স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বে
হতাশার পথ খুঁজে বেড়ায়?
তবু আশা নিভে যায় না—
কারণ আশা বেঁচে থাকে মানুষের মনেই।
আমরা স্বপ্ন দেখি
একটি নির্মল সকালের বাংলাদেশ,
যেখানে আলোর মতো ছড়িয়ে থাকবে ন্যায় ও মানবতা।
যে বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়াবে
সময়ের প্রতিটি পরীক্ষার সামনে।
যেখানে থাকবে না শোষণ, থাকবে না বৈষম্য—
থাকবে সম্মান, ন্যায় আর মানবিক মূল্যবোধ।
যে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই
স্বাধীনতার পূর্ণ মর্যাদা ধারণ করবে—
সাহসী, মানবিক, সার্বভৌম।
সেই বাংলাদেশই
আমাদের স্বপ্ন,
আমাদের অঙ্গীকার,
আমাদের চিরন্তন মাতৃভূমি।