
ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
ঈদে গ্রামে কাটায়ে ঢাকা ফিরলাম। রাজধানী খালি করে হাজার-হাজার মানুষ গ্রামে যায় ঈদ পূজা পার্বণে গ্রামের আত্মীয়স্বজনের সাথে পার্বণ খুশি ভাগাভাগি করে উপভোগ করতে! আমি ঘুরলাম গ্রাম থেকে উপজেলা জেলা শহর, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান ছিলো ব্যস্হতার বড় কারন! সন্ধ্যা ৬ টায় পদ্মা সেতুতে গাড়ী উঠতেই মনে হলো আবার যান্ত্রিক জীবনে প্রবেশ করলাম সেচছায়!
ফেলে এলাম মা-বাবার কবর! ফেলে এলাম কবে আসছেন কবে যাবেন, কারো প্রশ্ন ছিলো একদমই গ্রামের মুক্ত বাতাসে চলে আসা যায় না এমন আন্তরিক প্রশ্নবাণে শহরে আর কেউ জর্জরিত করবে না!
গ্রামের বাড়ীগুলা প্রায়ই ইটের পাকা দালানে রূপ নিয়েছে। অনেকে প্রবাসে চাকুরী করে, মালয়েশিয়া কুয়েত কাতার সৌদি আরব ফ্রান্স সহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে। এবার নতুন একটা দ্বীপ রাষ্ট্রের নাম শুনলাম “সামোয়া”!
বাংলাদেশের অস্হির রাজনৈতিক সময় থেকে বেশ কিছু লোক প্রবাসে বেকার হয়ে পড়েছে! গ্রামে তার প্রভাব পড়েছে উন্নয়নে! কারো গ্রামের বাড়ীর কাজ স্থগিত, কারো জমা টাকা ভেঙে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, কারো প্রবাসে সন্তান জেলে ঢুকেছে বাংলাদেশের প্রতি কিছুটা বৈরী আচরণে! লেখক হিসাবে আমার অনুসন্ধানে গ্রামের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ, মামলা-মোকদ্দমার খতিয়ান নজরে এলো! দলাদলিটা বজায় রাখতে নতুন-নতুন নেতার আবির্ভাব ঘটেছে, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বেশ নতুন মুখের আনাগোনা দেখলাম!
রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি জামাত ভালো অবস্থানে আছে, আওয়ামীলীগের দুর্দশা কাটে নাই! আওয়ামী নেতারা কেউ কেউ বাড়ীতে ফিরলেও গ্রেফতার আতঙ্কে দিগ্বিদিক রাত কাটাচ্ছে। দিনে বাড়ী থাকলেও রাতে নিজ বাড়ীতে অবস্থান নিরাপদ বোধ করছে না! টুঙ্গিপাড়া চিতলমারী মোল্লা হাট ফকির হাট পিরোজপুর নড়াইল থানাগুলোর নেতারা গা ঢাকা দিয়ে চলছে এখোনও!
ছবিতে গ্রামের একটা বাড়ী যা মালয়েশিয়া থেকে নকশা করে পাঠানো! অথচ সারা গ্রামে আমার একটা বাড়ী ছিলো রড সিমেন্ট এবং প্রকৌশলী দ্বারা নকশা করা তিরিশ বছরের ও আগে। এখন অধিকাংশ বিল্ডিং এমন আর্কিটেক্ট ডিজাইন!