কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
বাহিরে হাসির প্রদীপ জ্বলে, অন্তর পুড়ে ছাই,
আপন মানুষ পর হয়ে যায়, চেনার উপায় নাই।
তবুও আমি আলো ছড়াই, সয়ে সকল জ্বালা-
তিলে তিলে শেষ হয়ে যাই, গেঁথে দুঃখের মালা।
যারে খুঁজি পাই না আমি কভু আপন ঠিকানায়,
নিজের মাঝেই পরবাস আমি অন্ধ মিছে ভাবনায়।
মোমের সুতোয় জ্বলে-পুড়ে ছাই হলো অন্তঃসার,
বুকফাটা যন্ত্রণা নিয়ে বইবো আর কতকাল?
এই দুনিয়ায় পেলাম আমি মানুষরূপী পশু,
হাসির আড়ালে বিষ দিয়ে ঝরায় শুধু যেন অশ্রু।
যারে ভাবি খুঁটি আমি, সেই তো পিছে টানে-
তিলে তিলে মরছি আমি, সেই তো ভালো জানে।
একুল-ওকুল দুকূল জ্বালা, যাইবো কোন নিরলে?
সব কূল যেন বিষে ভরা, কান্দে মন অনলে।
প্রতিবাদে মানহানি হয় নীচজাতের আচারে,
ভাঙা নাওয়ের ফুটো নিয়ে আমি, আছি ভব সাগরে।
জীবন্ত লাশের প্রদীপ আমি, ছড়াই সুখের বান,
ভেতরে বাড়ে শূন্যতা আর বাহিরে সম্মান।
সুতোর টানে জীবনতরী চলছে উল্টো স্রোতে,
মুক্তি পাবো জানি একদিন, নিঃশেষ হয়ে মরে।
মোমবাতির হৃদয়-সুতো যদি অনলেতে পুড়ে,
নিজের গায়ে মোম যেন অশ্রু হয়ে ঝরে।
জ্বলন্ত সেই শিখার নিচে জমাট বাঁধে স্মৃতি,
ঝরে যাওয়া মোমের মাঝেই নিজেকে নিজে গাঁথি।
ওরে যারে রাখি বুকের মাঝে অতিশয় যতনে,
সেই সুতোটাই পোড়ায় মোরে নীরবে নিভৃতে।
মোম গলে ঝরে যায় নিঃশেষ পর্যন্ত পুড়ে,
জীবন দিয়ে জীবন গড়া শ্রেষ্ঠত্বেরই তরে।