কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
নিজের স্বপ্নে রঙ মাখাতে অন্যের চোখে জল,
স্বপ্ন জাগিয়ে কেড়ে নেয় যারা, তারা সেই কৌশলী দল।
পারিবারিক সেই চেনা আঙিনায়, স্নেহের বাঁধন ছিঁড়ে,
স্বার্থের টানে সবই হয় পর স্বপ্ন হারায় ভিড়ে।
তাসের ঘরের মতো ভাঙে সাজানো ঘরের আঁশ,
স্বপ্ন চুরিই কি তবে আজ সভ্যতার ইতিহাস?
অন্যের হৃদয়ে স্বপ্ন বুনে নিজের আখের গোছায়,
জীবন বাঁকে এই সত্যই তিলে তিলে পোড়ায়।
ভালোবাসার রঙিন মোড়ক, ভেতরে বিষের কণা,
অবুঝ মনের স্বপ্ন ভেঙে গড়ায় নিজের বায়না।
প্রিয়ার চোখে আকাশ দিয়ে কেড়ে নিল যে ভূমি,
স্বার্থ ফুরালে বুঝবে শেষে-পথের পথিক তুমি।
মিষ্টি হাসির আড়ালে সেই কাল নাগিনির বিষ,
স্বপ্ন জাগিয়ে হৃদয় পোড়ায়, কেড়ে নেয় অহর্নিশ।
মায়ার জালে বন্দি করে ছলে-বলে-কৌশলে,
স্বপ্ন চুরির নীলনকশা হয় প্রিয়ার বিষের অনলে।
দাম্পত্যের ঐ গোপন কোণে বিশ্বাসে বুনা ঘর,
স্বপ্ন পুড়িয়ে আপন মানুষও হয়ে যায় বড় পর।
মায়ার বাঁধন আলগা করে স্বার্থের টানে ছোটে,
বিশ্বাসের ঐ সাজানো বাগান তিলে তিলে সে লুটে।
ঘরের লক্ষ্মী সেজে যে জন আসলো আপন ঘরে,
সেই তো আবার স্বপ্ন কাড়ে কূটচালের ঐ ঝড়ে।
সুখের দোহাই দিয়ে নাগিন, দেয় যে বিষের দান,
নিজের চাওয়া পূর্ণ করতে চুষে সবার প্রাণ।
রক্তের টানে মেকি হাসি, আত্মীয় স্বজন তারা,
সুযোগ পেলে স্বপ্ন কাড়তে হয় যে হৃদয়হারা।
হিংসার আগুনে পুড়িয়ে মারে সাজানো রঙিন ঘর,
আপন বেশে আত্মীয়রাই আজ হলো যে বেশি পর।
হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে বুনেছিল যে আঁশ,
সন্তান যদি মুখ ফিরিয়ে দেয়, থাকে শুধু দীর্ঘশ্বাস।
বাবার লাঠি, মায়ের দোয়া-সবই যখন পণ্য,
স্বপ্ন চুরির মিছিলে আজ সবই অতি নগণ্য?
রক্তের টানে যে বিশ্বাসে বেড়ে ওঠা এক সাথে,
সেখানেই পড়ে স্বার্থের বিষ অমাবস্যায় ফাঁদে।
ভাইয়ের হক আর বোনের মায়া হারায় যখন লোভে,
স্বপ্ন চুরি সত্য হয় তখনই হৃদয় ভাঙার ক্ষোভে।
বিশ্বাসের ঐ চাদর গায়ে বন্ধু সাজে যারা,
স্বপ্ন জাগিয়ে আড়াল থেকে দেয় যে বিষের ধারা।
কাঁধের ওপর হাত রাখা সেই গোপন ঐ হাসিতে,
স্বপ্ন চুরির ফন্দি হলো বাঁচি কষ্টের ফাঁসিতে।
শত্রুর মিতা হয় গো যখন নিজের আপনজন,
সেই টেবিলে বসে চলে তোমার বিসর্জন।
হাসিমুখে বিষ বিলিয়ে স্বপ্ন চুরির তালাশ,
বন্ধুর বেশে শত্রু তখন চালায় ধ্বংসের প্রয়াস।
পেশা জীবনে গায়ের ঘামে যে স্বপ্ন করি চাষ,
কৌশলী হাত কেড়ে নেয় সব, ফেলি শুধু দীর্ঘশ্বাস।
স্বজনপ্রীতির মায়ার জালে যোগ্যতাহীন পায় ঠাঁই,
মেধার স্বপ্ন চুরি করে তারা, যাদের হৃদয়ে মনুষ্যত্ব নাই।
মেধার ঘামে সবাই কেনে বিলাসবহুল গাড়ি,
আমার শ্রমে ইমারত গড়ে নানান রঙের বাড়ি।
উচ্চ আকাঙ্খার ঐ সিঁড়ি হতে আমায় ঠেলে ফেলে,
সাফল্যের ঐ মুকুট পরে নিজের আখের খুলে।
তোমার মেধার ফসলে তারা সাজায় নিজের ঘর,
কাজের বেলায় আপন সেজে ফন্দি আঁটে পর।
মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে চিন্তা করে চুরি,
তোমার শ্রমে গড়া কাজ তা, নিজ নামে চালায় বাহাদুরি।
শ্রমিকের ঘামে স্বপ্ন কিনতে আসে পৌষের রোদে,
মালিক গড়ায় অট্টালিকা শ্রমিক বসে কাঁদে।
ন্যায্য পাওনা আটকে রেখে স্বপ্ন করে সে চুরি,
অসহায় শ্রমিকের রক্ত চুষে তারা, চালায় ধূর্ত বাহাদুরি।
পেটে খিদে মুখে হাসি-শ্রমিক যে রয় পাশে,
মালিক তখন হিসাব কষে নিজের মহোল্লাসে।
দিনান্তের সেই ক্লান্ত চোখে ছিল যে সুখের আশা,
স্বপ্ন চুরি যেন মালিকের কাছে আজ বড় ভালোবাসা।
পিঠের পিছে ছুরি মেরে সোনায় সোহাগা হাসে,
পদোন্নতির লোভে তারা বন্ধুত্বের বেশে আসে।
বসের কানে বিষ ঢেলে দেয় সুযোগ পেলেই একা,
সহকর্মীর স্বপ্ন চুরি-চলে আপন ভাবার চাকা।
জীবনের প্রতি বাঁকে বাঁকে চুরির আলামত,
অন্যের কাঁধে চড়ে যারা খোঁজে সাফল্যের পথ।
সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের ঐ উঁচু মিনার তলে,
স্বপ্ন জাগিয়ে স্বপ্ন চুরির মহোৎসব চলে।