
কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
দ্রব্যমূল্যের আগুন জ্বলে বাজারের প্রতিটি ধুলায়,
মানুষের হাঁসফাঁসে দম বন্ধ হয় নীরব ফন্দিতে কাঁদায়।
নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যেন গোপন আঁতাতের চাপ,
সাধারণ মানুষের চোখে জমে তাই অসহায়তার ছাপ।
সিন্ডিকেটের গোপন চক্রে জাগে কৃত্রিম অভাবের গান,
গুদামের ভেতর বন্দি থাকে জনতার ন্যায্য আহার-প্রাণ।
অসাধু হাতে বদলায় সবই বাজারের নিয়ম-রীতি,
মানবতার কণ্ঠ রোধ করে চলে লোভের নির্লজ্জ গীতি।
নৈতিকতার দেয়াল ভেঙে গড়ে ওঠে মুনাফার সেই প্রাসাদ,
সাধারণের ঘরে বিষণ্ণ সুরে বাজে গোপন আর্তনাদ।
মানুষের কান্না যেন তাদের কাছে অঙ্কের হিসাব মাত্র,
লাভের নেশায় অন্ধ তারা-বিবেকের নেই লেশমাত্র।
চালের দামে, তেলের দামে, আগুন লাগে প্রতিটি ঘরে,
দরিদ্র মানুষের স্বপ্ন পুড়ে ছাই, নিরবে যেন মরে।
বাজারের ন্যায্যতা বন্দি যেন আজ লোভের অদৃশ্য শিকলে,
জিতেছে শুধু স্বার্থের কোকিল অসহায় ন্যায়ের বদলে।
রক্তচোষা এই গোপন নীতি আছে ঘরে ঘরে,
মুখের আহার কেড়ে জমায়-যাক না সবাই মরে।
মুখোশধারী মানুষগুলো হিংস্র পশু যাদের বলে,
অনাহারীর খাবার নিয়ে নিষ্ঠুর খেলা খেলে।
লোভের বানানো মুনাফার টাকায় থাকে না দীর্ঘকাল,
হারাম উপার্জনে কেন তুমি গড়ো অশান্তির মায়াজাল।
ন্যায়ের পথে ফিরলেই পাবে সুখের পূর্ণ আলো,
অন্যায়ের আঁধার ভেঙে হটাও যতই আসুক কালো।
সামর্থ্যের বাইরে পণ্যের দামে ওঠে নাভিশ্বাস,
মুটে-মজুর গরিব দুঃখী ফেলে যায় দীর্ঘশ্বাস।
নেই প্রতিবাদ, নেই অভিযোগ-এ কেমন রাষ্ট্র,
মহান প্রভু করবে বিচার মনে রেখ পথভ্রষ্ট।
জ্বালানির নামে দামে আগুন, সিন্ডিকেট খেলে খেলা,
তেলের ছলে ভাড়া বাড়ে, চাপে জনতার বেলা।
গ্যাসচালিত গাড়ির ভাড়াও বাড়ে গোপন ফন্দির ছলে,
অন্যায়ের এই কারসাজি আজ চলছে দলে দলে।
উৎসব এলে অন্য দেশে কমে নিত্য পণ্যের দাম,
এই দেশে কেন শুধু বাড়ে লোভের নেশা অবিরাম।
নামে যেন মুসলমান তারা, কর্মে ভিন্ন রূপ,
মানবতা আজ বন্দি সেথায় স্বার্থলোভের কূপ।
টিকিট ক্রয়ে ফন্দি চলে, বাজার দরে ফাঁকি,
চিকিৎসা সেবায় স্বার্থভরা হিসাবের আঁকাআঁকি।
শিক্ষাঙ্গন যেন জিম্মি আজ পদের লোভের ফাঁকে,
কৌশলী পড়া মেধাহীন জাতি গড়ছে বাঁকে বাঁকে।
বাপের জমির হিস্যা পেতে গুণতে হয় যে টাকা,
অফিসঘরে কালো বিড়াল চায় গোপনের সেই ঝাঁকা।
ভূমি অফিসের প্রতিটি পরতে মিশে আছে গণ্ডগোল,
টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না কী বলব আর বল।
পাসপোর্ট করতে দালাল লাগে, বিদেশ যেতে ভিসা,
পবিত্র হজেও ছাড় মেলে না-রক্তে পাপের নেশা।
বেহাল দশা চাকরির বাজার চলবে কত কাল,
জিম্মি বেকার এই দেশেতে সিন্ডিকেট বেড়াজাল।
সংকট বলে মজুদ করে অসাধুদের পশুদল,
ক্ষুধার মুখে তালা ঝুলে-কী নিষ্ঠুর এই ছল।
একদিন এই আঁধার কেটে ভাঙবেই সব বেড়াজাল,
ন্যায়ের আলো ফিরবেই আবার-হবে সত্যের কাল।
ভাঙবে একদিন জানি আমি এই লোভের অন্ধকার কারাগার,
সত্য আর ন্যায়ের আলোয় ফিরবে মানুষের অধিকার।
মানবতার জাগরণে নেমে আসবে ভোরের নতুন সুর,
সিন্ডিকেটের বেড়াজাল ভেঙে উঠবে ন্যায়ের দীপ্ত নূর।