
মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি ও আলোচনা-সমালোচনা। প্রথমে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়—ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল বা কোনো যানবাহনে তেল সরবরাহ করা হবে না। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।
প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বিভিন্ন স্থানে নিয়ম বাস্তবায়নে শিথিলতা, অনিয়ম এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদাসীনতার অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই আইনকে কার্যত “বৃদ্ধাঙ্গুলি” দেখিয়ে তেল সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনই একটি চিত্র দেখা যায় ১ এপ্রিল দুপুরে ডিমলা উপজেলার আফতাব ফিলিং স্টেশনে।
এরই মধ্যে হঠাৎ করে প্রশাসনের পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে শর্ত ছাড়াই তেল সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা ও প্রশ্ন। অনেকেই জানতে চাইছেন—আইন কি শুধুই ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রয়েছে দ্বৈত নীতি?
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা না থাকলে আইন প্রয়োগের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। তারা বলছেন, প্রশাসনের উচিত সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করা, যাতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—ভবিষ্যতে এমন ‘সার্কাসসদৃশ’ পরিস্থিতি এড়িয়ে বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন।