
মোহাম্মদ মনজুর আলম অনিক
সারা দিন মোমিন কিছু খায় নাই। সেই সকাল সাড়ে নয়টা পৌনে দশটার দিকে পান্তা ভাত খাইয়াছিল। স্ত্রীর সহিত ঝগড়া করিয়া
এখন অবধি দানাপানি তাহার উদরে পড়ে নাই। ভীষন ক্ষুধা পাইয়াছে তাহার। জামার পকেট হাতরাইয়া দেখিলো পকেটে মাত্র ৩৭ টাকা পরিয়া রহিয়াছে। এই টাকাটা গতকাল বাজার খরচ করিয়া বাঁচিয়াছিল মাত্র। এরকম রেলস্টেশনে ৩৭ টাকায় সে কি পাইবে আর কিইবা কিনিয়া খাইবে? ভাবিয়া কুল পাইলোনা মস্তকের চুল খামচাইতে খামচাইতে আবার চোখে জল আসিয়া পড়িল। মোমিন যে বাড়ি ছাড়িয়া নিরুদ্দেশে বাহির হইয়াছে ইহা কেহই অবগত নহে । এতক্ষণে হয়তো নয় বৎসরের মেয়ে টা এবং তিন বৎসরের ছেলে টা বাবা বাবা বলিয়া ক্রন্দন করিতেছে।কিন্তু তাহারা তো জানেনা তাহাদের বাবা কোথায়? বিশেষ করিয়া মোমিনের মেয়ে টা এতো বেশি বাবাকে ভালোবাসে যে বাবাকে ব্যতীত খাবারটাও খাইতে চাহে না। হায়রে বাবার প্রতি ভালোবাসা মেয়ের। সেই ক্ষুদ্র মেয়েটাকে ত্যাগ করিয়া অতি আদরের পুত্র সন্তানটাকে ত্যাগ করিয়া। মোমিন কে গৃহ ত্যাগ করিতে হইল কেবল মাত্র স্বয়ং স্ত্রীর কারণে। তাহার স্ত্রী বড় কোন ধনীর দুলালী নহে, কিন্তু রুপসী বলিয়া মোমিন তাহাকে বিবাহ করিয়াছে।
বিবাহ হইবার এক বৎসর পরেই সংসারে কলহ বিবাদ শুরু হইল।
সে শাশুড়ী কে মোটেও সহ্য করিতে পারে না।
একটু খানি খুটমুট হইলেই তাহা বিরাটকার করিয়া কোমড় বাঁধিয়া শাশুড়ির সহিত ঝগড়া করে, আর এই ঝগড়াই মোমিন সহ্য করিতে পারে না। একদিন শাশুড়ির সহিত ঝগড়া করিবার সময় মোমিন মাঠের কর্ম সারিয়া গৃহে প্রবেশ করিল দেখিল বউ শাশুড়ি মিলিয়া লঙ্কাকাণ্ড বাধাইয়ো দিয়াছে। শাশুড়ি বুড়ী মানুষ বউয়ের সহিত কুলাইয়া উঠিতে পারিতেছে না।ঝগড়াটা বড় কোন কারণে নহে সামান্য উনুনের আগুন জ্বালাইবার যৎকিঞ্চিত লাকড়ি লইয়া। ব্যাপার টা হইল শাশুড়ি আগেই উনুনে রন্ধন কার্য সারিয়া লইয়াছে, শাশুড়ির জন্য বেশি করিয়া লাকড়ি রাখে নাই, রন্ধনের কর্মে যতগুলো লাকড়ি লাগিয়াছে তাহাই সে জ্বালাইয়া ফেলিয়াছে।
শাশুড়ির জন্য বেশি লাকড়ি রাখে নাই কিসের কারণে ইহাই হইলো ঝগড়ার মূল উৎস।
তাহারপরে শাশুড়ি নাকি বউয়ের বাপ মা তুলিয়া কথা বলিয়াছে, বাপ মা নাকি উচিত শিক্ষা দেয় নাই, গো মূর্খ করিয়া রাখিয়াছে মেয়েকে। বউকে মূর্খ বলিয়া গালি দেওয়াই বউয়ের রাগ হইয়াছে।
ভাহাই বউ কোমর বাঁধিয়া শাশুড়ির সহিত ঝগড়া করিতেছে।
মোমিন বউকে থামিতে বলিল কিন্তু স্ত্রী সেই দিকে কর্ণপাত করিলো না। সে আরো বেশি করিয়া গলা উচাইয়া তাহার মায়ের সকল কর্মের বর্ণনা দিতে লাগিল কন্ঠ আরো উচাইয়া গেল। আশেপাশের গৃহের গৃহবধূগণ তাহাদের বউ শাশুড়ির ঝগড়াঝাঁটির মজা লুটিতেছে। কেউ শাশুড়ির পক্ষ লইয়াছে যাহারা বয়স্ক এবং মধ্য বয়স্ক তার শাশুড়ির পক্ষ লইয়াছে
যাহারা মোমিনের বউয়ের সমবয়সী তাহারা মোমিনের বউয়ের পক্ষ লইয়াছে। পক্ষ লইয়া ঝগড়াঝাঁটিতে আরো ইন্ধন যোগাইতেছে।ঝগড়া আরো দ্বিগুন হইয়া যাইতেছে, সময়টাও বিকাল বেলা পাড়া-প্রতিবেশী গৃহবধূদের গৃহের সকল কাজকর্ম শেষ হইয়া গিয়াছে। কেহ কেহ বাচ্চা কোলে করিয়া বউ শাশুড়ির ঝগড়া শুনিয়া মজা পাইতেছে। কেহ কেহ শাশুড়ি খারাপ বলিয়া মন্তব্য করিতেছে আবার কেহ কেহ বউটা সুন্দরী হইলে কি হইবে অন্তরটা বড়ই খারাপ বলিয়া মন্তব্য করিতেছে। আর সত্যিকার অর্থে বউটা একটু খারাপই বটে তাহা না হইলে স্বয়ং স্বামীকে অবহেলা করে কেন? আসলেই সে স্বামীকে স্বামী বলিয়া তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না। অবহেলা করিবার একটা সীমা থাকে কিন্তু মোমিনের স্ত্রীর অবহেলাটা মাত্রাতিরিক্ত বটে।
মোমিন স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে না কারণ সে শিক্ষিত ছেলে, তাহার উপর পাড়া-প্রতিবেশী মহিলারা তাহাদের আঙ্গিনায় আসিয়া তাাদের ঝগড়া উপভোগ করিতেছে। মোমিন স্ত্রীকে ঝগড়াঝাটি থামাইবার নিমিত্তি অনেকবার বাধা প্রদান করিল কিন্তু যখন স্ত্রী বাধা মানিননা তাহাই সে চুপ করিয়া আপনা আপনি টিউবলে গিয়া অবগাহন করিল। নিজেই নিজের সাবান লুঙ্গি তোয়ালে লইয়া লইলা। স্ত্রীকে আগাইয়া দিবার জন্য বলিলো না। নিরবে ভাতের হাড়ি উদাম করিয়া নিজেই ভাত খুলিয়া খাইলো। চলবে…