শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় যাত্রীবেশে চালককে কৌশলে সরিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ছিনতাই হওয়া লাল-কালো রঙের ডিসকভার ১১০ সিসি মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় শাল্লা থানাধীন ০১ নং আটগাঁও ইউনিয়নের শরীফপুর ও চিকাডুবির মধ্যবর্তী 'বারবনের মাঠ' নামক স্থানে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সাইফুল্লাহ আহমেদ (২৪) তিন যুবককে ভাড়ায় নিয়ে যাওয়ার পথে ১নং আসামি মোঃ রোকন মিয়া প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামায়। পরবর্তীতে কৌশলে চালককে গাড়ি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেলে সুযোগ বুঝে অন্য দুই সহযোগী মোঃ মারুফ মিয়া ও মোঃ সাগর মিয়া মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
: ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী সাইফুল্লাহ আহমেদ শাল্লা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগ প্রাপ্তির পর অফিসার ইনচার্জ শাল্লা থানা মহোদয়ের নেতৃত্বে এস আই তারেক নাজির, এস আই শাহজাহান সংগীয় ফোর্স সহ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানা পুলিশের সক্রিয় সহায়তায় ফুলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি (ইঞ্জিন নং- JBXPNH58928) উদ্ধার করা হয়। এদিকে গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টার দিকে দৈনিক যায়যায়দিনের শাল্লা প্রতিনিধি দিলুয়ার হোসেন এর ভাই নজরুল ইসলামের গাড়িটিও নিজ বাসস্থান থেকে চুরি করে নিয়ে যায় এই চক্রের সদস্যরা। উপজেলার চব্বিশা গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, আমার ডিসকবার ১১০ সিসির গাড়িটি গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাতে আমার বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায়। এই বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী রোকন মিয়ার যোগসাজস রয়েছে আমার গাড়ি চুরির সাথে। এবং এই রোকন মিয়ার মাধ্যমেই সকল চুরদের চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাই কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এই অভিযোগে উপরের ছিনতাইকারী সদস্যরা রয়েছে। এবং আমার গাড়ি চুরির বিষয়টি এই চক্রের সদস্যরা স্বীকার করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা এই ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে। তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধী চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা তৎপর এবং এই চক্রের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।