পলাশ মন্ডল আকাশ
আজ ২০২৬ সালের ৬ই এপ্রিল। একাত্তরের সেই রক্তিম সূর্যোদয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ পাড়ি দিয়েছে এক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে সেই ইতিহাসের কিছু অম্লান সত্য তুলে ধরতে চাই, যা হয়তো বর্তমানের ভিড়ে অনেক সময় ধামাচাপা পড়ে যায়।
আমাদের এই স্বাধীন মানচিত্রটি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ অর্জিত হয়েছে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ১৯৭৪ সালের সেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আমাদের জাতীয় জীবনে এক চরম হাহাকার ও সংকটের সৃষ্টি করেছিল। এরপর ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় এক বিয়োগান্তক ও অন্ধকার অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেনাশাসন আর ক্যু-পাল্টা ক্যু-এর সাক্ষী এই বাংলার প্রতিটি রাজপথ।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের জয় হয়েছিল, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে এসেছিল নাগরিকের কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি দুই প্রধান দলের শাসনকাল, হরতাল-অবরোধের সংঘাতময় রাজনীতি আর ২০০৪-এর ২১শে আগস্টের সেই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা। ১/১১-এর বিশেষ সরকার আর দুই নেত্রীসহ তারেক রহমানের কারাবরণের সেই অস্থির ও অনিশ্চিত সময়টিও আমাদের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
বিগত দেড় দশকে আমরা যেমন পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেলের মতো দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখেছি, তেমনি অনুভব করেছি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণের চাপা দীর্ঘশ্বাস ও গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার বেদনা। ২০২০-এর কোভিড মহামারী আমাদের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিকে থমকে দিয়েছিল। অবশেষে ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সেই অভূতপূর্ব গণবিস্ফোরণ আমাদের পুনরায় এক নতুন স্বাধীনতার আস্বাদ দেয়। আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের মতো হাজারো তরুণের আত্মত্যাগ আর ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তন আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের এক ঐতিহাসিক সুযোগ করে দিয়েছে।
একটি দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়া এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আজ আমরা একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে ২০২৬-এর এই নতুন ভোরে দাঁড়িয়ে আছি। নতুন প্রজন্মের কাছে আমার বিনীত আহ্বান—আপনারা এই চড়াই-উতরাইয়ের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসকে জানুন। কারণ, সত্য ও নিরপেক্ষ ইতিহাসই হতে পারে আপনাদের আগামীর পথচলার শ্রেষ্ঠ দিশারি। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না; থাকবে কেবল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ।