শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

গল্প:- অচেনা সেই চোখজোড়া

Coder Boss
  • Update Time : সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৩৫ Time View

 

লেখক: মো. রবিন ইসলাম

গোসল সেরে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আয়নায় নিজেকে দেখছিলাম। পাশের কয়েক ঘর দূরে কিছু মেয়ে গল্প করছিল। তাদের মাঝখানে একজন মেয়ের চোখ বারবার আমার দিকে ফিরছিল। একবার তাকাতেই চোখ সরাতে পারিনি। অপলক তাকিয়ে ছিলাম তার দিকে—প্রায় দশ মিনিট। সেই চাহনিতে ছিল এক অদ্ভুত মায়া, এক টান, যা চোখের পাতা ফেলতে দিচ্ছিল না।

মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছিল খুব চেনা, যেন বহুদিনের সঙ্গী। অথচ এটাই ছিল আমাদের প্রথম দেখা। চোখ দুটোতে যেন কথা ছিল—ইশারায় যেন ডাকছে আমাকে। শরীরের গঠন ছিল নিখুঁত, যেমনটি স্বপ্নে কল্পনা করা যায়। মনে হচ্ছিল, সে যেন ভালোবাসার জন্য অপেক্ষমাণ।

এমন সময় সজাগ হলাম—মা ডেকে খেতে বলছিল। যেতে হলো। খেতে বসে মন পড়ে ছিল ওর কাছেই। হঠাৎ দেখি, মেয়েটি আমাদের আঙিনায় এসেছে, মা-র সঙ্গে কথা বলছে। লজ্জায় আমি মাকে বললাম ওদের ঘরে বসতে বলো। মা বললো, “তুমি গিয়ে বসো।” কিছুক্ষণ পর ওরা চলে গেল।

আমি পুকুরপাড়ে গিয়ে বই হাতে বসলাম। কিন্তু মন পড়ায় বসছে না। মেয়েটির মুখ বারবার চোখের সামনে ভাসছে। কীভাবে তার সঙ্গে কথা বলবো, ভাবতেই পারছিলাম না। ঠিক তখনই তাদের আত্মীয় এক ছোট মেয়ে এলো। তাকে বললাম, “ওকে গিয়ে বলো, আমি কথা বলতে চাই।” কিছুক্ষণ পর সেই মেয়েটি ফিরে এসে বলল, “আপনার নম্বর চাইছে।”

তখনকার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ছুটে গিয়ে নিজের নাম ও নম্বর লিখে দিলাম। মনে হচ্ছিল, যেন আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছি।

পরদিন মেয়েটি চলে গেল। শেষবার দেখতে ওদের পিছু নিলাম। কিন্তু সে আর একবারও পেছনে তাকায়নি। মন ভেঙে গেল। ভাবছিলাম, তাহলে সে নম্বর নিল কেন?

একদিন কেটে গেল। কোনো কল এল না। ভেবেছিলাম, আর আসবেও না। কিন্তু হঠাৎই একদিন ফোন বেজে উঠল—অপরিচিত নম্বর। কল রিসিভ করলাম। দু’পাশেই নীরবতা। আমি বললাম, “কেমন আছেন?” ওপাশে হেসে বলল, “আপনি কি আমার সঙ্গে প্রেম করবেন? তাহলে আপনি করে বলছেন কেন?”

প্রেম শব্দটা শুনেই গলা শুকিয়ে গেল, কিছু বলার আগেই সে কল কেটে দিল। ভাবলাম, ‘আপনি’ করেই কি ভুল করলাম?

কিছুক্ষণ পর আবার ফোন এল। বলল, “ভাই এসে গিয়েছিল।” এরপর কিছু কথা হলো। ধীরে ধীরে পরিচয় গভীর হতে লাগল। পরদিন সাহস করে বললাম—প্রথমে ইংরেজিতে। সে বলল, “বাংলায় বলো।” আমি বললাম, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।” উত্তরে সে বলল, “আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।”

সেই দিন থেকেই সেই অচেনা চোখজোড়ার মালিক মেয়েটি আমার আপন হয়ে গেছে। আজও সে আমার। আমি তার। চিরকাল।

 

মো. রবিন ইসলাম
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ
ঢাকা কলেজ, ঢাকা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102