
লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
বিশ্বে আজ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে তবে জাতিগত দাঙ্গা বা জাতিগত নিধন এই সংখ্যায় যুক্ত নয়! যদি প্রশ্ন করেন কোন যুদ্ধে সবচেয়ে বেশী মানুষ জীবন দিয়েছে, তার উত্তরে বলবো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, যেখানে প্রায় ৭/৮ কোটি লোক প্রান হারিয়েছে! কোনদেশ বেশি আত্মাহুতি দিয়েছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, সোভিয়েত ইউনিয়ন!
যদি প্রশ্ন করেন বিশ্বে কোন যুদ্ধে সবচেয়ে বেশী মুসলমান হত্যা হয়েছে, উত্তরে বলবো, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা হয়েছে, ৪ লক্ষ মা-বোনেরা ধর্ষিত হয়েছেন (as per Canadian doctors who came for treatment of raped women), ১ লক্ষ জারজ শিশু জন্ম নিয়েছিলো” যাদের ইউরোপীয় দেশগুলো দত্তক নিতে এগিয়ে এসেছিলো! অত্যান্ত জ্ঞানের আলোকে ততকালীন নেতৃত্ব নির্যাতিত মা দের বোঝা মুক্ত করতে দত্তক দিয়ে শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছিলেন এবং মা দের কলঙ্ক বোঝা বহন থেকে দায় মুক্তি দিয়েছিলেন!
প্রিয় পাঠক, Two women সিনেমা যারা দেখেছেন, মা-মেয়ে গীর্জায় আশ্রয় নিয়ে ধর্ষণ থেকে রেহাই পায় নাই, মায়ের সামনে মেয়ে এবং মেয়ের সামনে মাকে বুট জুতা উর্দি পরা সৈন্যরা ধর্ষন করেছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পেক্ষাপটের এই সিনেমায়! বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী “সোফিয়া লোরেনের,” এই অভিনয় যুদ্ধের উপর এবং সেনাবাহিনীর উপর মানুষের ঘৃণা সৃষ্টি করেছিলো যারা উপসনালয় বুট জুতা পায়ে প্রবেশ করে ধর্ষণের মত তান্ডব করতে আল্লাহ ভগবান ঈশ্বরের ভয়ে ভীত হন নাই!
পাঠক, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে এমনটিই ঘটেছিল মুসলমান কে মুসলমান দ্বারা! তাদের দেশের নেতারা ধর্ষণের বিষয় ব্যাঙ্গ করে বলেছিলেন,” “আমার সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে পূর্ব পাকিস্তানে যৌনকর্ম সারবে কি পশ্চিম পাকিস্তানের ঝিলাম নদীতে এসে?”
দুঃখজনক হলে-ও সত্যি, ১৯৭১ সালের বর্বরোচিত “হত্যার সংখ্যা” ১৯৭৫ সালে “মুজিব” হত্যার পর কমিয়ে বলা কালচার শুরু হয়েছে! এখন নাকি কেউ কেউ তিন লাখ বলা শুরু করেছেন, যদি-ও পাকিস্তান ১২ লাখের মত হত্যা হতে পারে বলে একবার মন্তব্য করেছিলো!
আমরা এতই নির্লজ্জ মুসলমান, হত্যা ধর্ষণ কে legalise করে ফেলি! কুরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তার মোমেন বান্দাকে খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখেন, বিপদ থেকে রক্ষা করেন!” কোথায় সেই মুসলমান?
টাকা পাইলে আদালতে কুরআন শপথের পর মিথ্যা সাক্ষী দেই, উপকারীর উপকার ভুলে যাই, দেনা করে ফেরত দেই না, আত্মার বন্ধনে কেউ আত্মীয় নয়, বরং প্রয়োজনে প্রিয়জন! দাড়ি-টুপি নামাজ, বোরকা পরে ডাকু সুলতানা, ইসলামের দায়িত্ব শেষ! আত্মার শুদ্ধি করি না! গরীব দুঃখী আত্মীয় স্বজন কারো হক পালন করি না! কুরআনের “ক্ষমা করার কথা পালন করি না!” সবাই লেবাসে মুলমান, ঠিক নাই কারো ঈমান, মানবতা মনুষ্যত্ব তাকওয়া পূর্ণ জীবনের ধার ধারে না তাইতো ৫৭ টা মুসলমান দেশ একটা ইহুদি রাস্ট্রের হাতে নাস্তানাবুদ ৭৭ বছর ধরে! আমরা টয়লেট বানাই স্বর্ন দিয়ে, বিমান থেকে নামবো বিমানের সিড়ি ব্যবহার না করে স্বর্নের তৈরি সিঁড়ি নিয়ে যাই বিমানে করে এবং জন দশ শ্রমিক নিয়ে যাই ওজনের সিঁড়ি টা পেতে দেয়ার জন্য! খেজুর পাতায় বসা নবী খলিফা দের উম্মত “মল নিঃসরণ” করতে সোনার টয়লেট ব্যবহার করে, চুল ছাঁটা তে ইংল্যান্ড যায় সোনার তৈরি ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে!
প্রিয় পাঠক, আফ্রিকার মুসলমান ভাইরা দুই পিচ পাউরুটি খায় খালের পারে বসে জলে ভিজিয়ে! তাদের রুটি জুটলে তরকারি জোটে না ! তাদের প্রতি এসব ধনী মুসলমানদের হাত প্রসারিত হয় না!!
বৃহৎ শক্তিগুলো মডার্ন যত যুদ্ধ অস্ত্র বানায়, তার ৩৭% একটা মুসলমান দেশ কিনে, বৃহৎ শক্তি কে খুশি করে কিন্তু, যুদ্ধের নামে ঠনঠন! বাকী মুসলিম দেশগুলোর যুদ্ধাস্ত্র কেনার বাহার না-ই বা বললাম!
আবার ঐ শক্তিধর দেশের কয়েক হাজার সৈন্য মদ মহিলা বেতন দিয়ে লালন-পালন করেন নিজের গদি রক্ষা করতে!
যদি কোন বেয়াদব বলে, “বিশ্বে আল্লাহর প্রিয় কোন মুসলমান নাই যার ভিতর আল্লাহ ভীতি, ঈমান আকিদা মানবতা মনুষ্যত্ব তাকওয়া পূর্ণ জীবনের আছে! কোন মুসলমান মোমেন নাই! শুধু আছে দাড়ি-টুপি নামাজ বোরকা লেবাসধারী নামের মুসলমান তাই আল্লাহ রক্ষা করেন না! কারন আল্লাহ মিথ্যা বলেন না, শুধু ওয়াজ নসিহত মসজিদ গমন লেবাস তিনি চান না, আত্মশুদ্ধি পরহেজগার ক্ষমাশীল পরোপকারী সত্যি বাদী সুদ ঘুষ মুক্ত অহিংস বান্দা যা তিনি খুঁজে পান না বলে ইসরায়েল কে দিয়ে সোনার টয়লেট ভেঙে দেন!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।