
লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
সারা বিশ্বে পতিতাবৃত্তি ছাড়ানো ছিটানো বিভিন্ন নামে সেই খৃঃ পূর্ব ৩০০ সাল থেকে চলছে যা কৌটিল্য শাস্ত্রে লেখা আছে! রাজা বাদশাহ দের আমলে নর্তকী, বা বাঈজী নামে চালু ছিলো।
ধরুন মোগল বাদশাহ দের আমলেও নিজ হেরেমে রেখে নারীকে ভোগ্য করা হতো! সেই মধ্য যুগে আম্রপালি, সালাবতী, সামা বৌদ্ধ গ্রন্হের বাঈজী।
সারা বিশ্বের ভিতর বড় পতিতা পল্লী কোলকাতার
“সোনা গাছি” যেখানে খাতা-কলমে ১৪/১৫ হাজার কিন্তু বাস্তবে আরো অনেক বেশী যৌনকর্মী আছেন!
বাংলাদেশের রাজবাড়ীর দৌলাদিয়া, টাঙ্গাইলের কান্দাপাড়া, খুলনার বানী শান্তা বেশ বড় যৌন পল্লী। কান্দাপাড়া ও প্রায় ১৪ হাজার যৌনকর্মী আছে বলে জরিপে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে মোট ১৪ টা অনুমোদিত যৌন পল্লী আছে। এর মধ্যে নারায়নগঞ্জের টান বাজার পতিতা পল্লী ১৯৯৯ তে ততকালীন সরকার উচ্ছেদ করেছেন বড় নির্দয় ভাবে! এক শ্রেনীর মোল্লারা উল্লাসে মাতলেও পুনর্বাসন ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদে যতটা ধর্মীয় ছিলো তার থেকে বেশী ছিলো রাজনৈতিক মোটিভেটেড!
যেহেতু bothel Complex এ ২০০০ রুমে প্রায় ৪ হাজার পতিতা শ্রম দিতো এবং মালিক ছিলো বিএনপি রাজনীতির তাই হঠাৎ উচ্ছেদ ছিলো মেয়েগুলোর জন্য নির্মম! নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সাংসদ তৈমুর এর ভাইকে হত্যা করে টান বাজার যৌন পল্লীর মালিক জাকির ফেঁসে যায়, আওয়ামী সরকার ও সুযোগ নেয়।
প্রিয় পাঠক, দেহ বেঁচে জীবিকা নির্বাহ করা নারীদের আমরা পতিতা, কষবি, গণিকা, বার বনিতা, ছিনাল,নটি, বেশ্যা কত কথা বলে মুখরোচক ভাষা তৈরি করি, কিন্তু প্রতিটি মেয়ের জীবনে রয়ে যায় সাগর সম প্রবঞ্চনা গঞ্জনা প্রতারণার ইতিহাস! প্রেমিকা বিক্রি করে গেছে, স্বামী বিক্রি করে গেছে, আপন ভাই, চাচা, প্রতিবেশী কাজ দেয়ার প্রলোভনে শহরে এনে বিক্রি করে দিছে। সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গার্মেন্টস কাজের খোঁজে বের হয়ে বিক্রি হয়ে আজীবনের তরে আটকে গেছে! নব্বই শতাংশের ইতিহাস এমনই শোনা গেছে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে!
দুঃখজনক বিষয় হলো ব্যাংকক সিঙ্গাপুর ম্যানিলা ইন্দোনেশিয়ার পতিতা পল্লী যেন পাঁচ তারকা হোটেল! অথচ বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান পতিতালয় গুলো দুর্গন্ধ পচা ড্রেনের পাশাপাশি কক্ষ কম, একই কক্ষ ভাগাভাগি, যেখানে দেহ দান সেখানে খাওয়া ঘুম এবং মৃত্যুর পর জানাজা বিহীন নদীতে ভাসানো কালচার আজ-ও চলয়মান!
আমরা দাড়ি-টুপি কোর্তা পরা মুসলমান, তিলক ধুতি পাঞ্জাবী পৈতা ওয়ালা হিন্দু সবাই মানবতা মনুষ্যত্বহীন ধার্মিক।
বানী শান্তা পতিতা-দের মুখে শুনলাম, দাড়ি চাদরে ঢেকে খরিদদর আসেন। আবার কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলে তাদের কাছ থেকে দান চেয়ে নেন কিন্তু ধর্মীয় বিচারে তাদের মানুষ মানা হয় না।
পাঠক, জেনার থেকে বড় গোনাহ শিরক হিংসা বিদ্বেষ দাম্ভিকতা মিথ্যা বলা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন, খুন, সুদ ঘুষ ভুমি দস্যুতা ধর্ষণ অকৃতজ্ঞতা ইত্যাদির পর “জেনা!”
সব দেশে সরকার পতিতা-দের চিকিৎসার জন্য সরকারি ডাক্তার দেন, কারন এখান থেকে সারাদেশে সিফিলিস গনোরিয়া এ্যাইডস রোগ ছড়ায়! কিন্তু বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানে এমন ব্যবস্হা করলে সরকারের পতন হয় কিনা জানিনা।
মেয়েগুলো অসুস্থ অবস্থায় ও দেহ খাটায় তা না হলে পেটের ভাত জোটে না, এছাড়া আছে নির্যাতন, সর্দারনীর অত্যাচার, কুমারিত্ব ছুটানোর নিষ্ঠুরতা, রাজনৈতিক বা পড়ার মাস্তান বা প্রশাসনের লোকজনের ফাও খাওয়া!
কেউ কেউ এই আয় থেকে গ্রামে মা-বাবা ভাই-বোনের খরচ পাঠায়, অনেকের সন্তান আছে এই পাড়ার মধ্যে রেখে ই তাদের স্কুলে পড়ায় তাদের মা, বাবা কে তা সন্তান জানে না!
সরকারের উচিত এসব শিশুদের লালনপালন শিক্ষার জন্য শিশু সদন করে দেয়া। প্রতি পল্লী তে
ডাক্তার ও প্যাথলজি ল্যাব করে দেয়া! এদের প্রশাসনিক সহায়তা দেয়া, মরার পর কবর শ্মশানে আইন করে স্হান দেয়া। অনেক মেয়েকে শুনেছি নামাজ রোজা পূজার্চনা করেন! বাড়ীর পাশে নেপাল ব্যাংকক সিঙ্গাপুর ইন্দোনেশিয়া কুয়ালালামপুর ম্যানিলা সুস্থ সবল নারী তরতাজা সুস্থ জীবন আনন্দে পার করছে। যৌন কর্ম সেখানে হোটেলে বারে ক্যাবারে ম্যাসেজপার্লারে সব জায়গায় হচ্ছে, কেউ তাদের ভ্রকুটি করে না! অবশ্য সেখানে এত অশিক্ষিত লেবাসধারী ধার্মিক নাই। চুরি ডাকাতি ছিনতাই ধর্ষন নাই! রাত দুইটা তিনটায় নারী পথে চলছে একটা শর্ট প্যান্ট ও একটা গেঞ্জি গায়ে, কেউ তাদের দিকে তাকাচ্ছে না! আমাদের দেশে তিন বোরকা ভেদ করে নারীকে দেখছে আর বাসায় যেয়ে নারীকে মনে করে ষড়রিপু জাগ্রত করে পূন্যে থলি ভরছে কারন গতকাল ই ওয়াজে শুনে এসেছে পুরুষের পাপের জন্য নারীর বেলেল্লাপনা চলাফেরা দায়ী, কারন নারী তেতুল, তাকে দেখলে পুরুষ জিহবায় লালা আসবেই সে জন্য পুরুষ দায়ী নয় দায়ী নারী! তাই বন্দী করো ঘরে, বন্ধ করো স্কুল কলেজ মাদ্রাসা চাকুরী!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।