
কলমেঃ নূরুন্নাহার নূর
আজ আকস্মিক নজর পড়ে বাবার হ্যাঙ্গারে–
বাবার সেই পুরনো কোট-টায়।
আঁখি যুগল জলে ছলছল করছে!
দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদে
হস্তদ্বয় বাড়িয়ে দিলাম ঐ কোট-টায়!
অশ্রুসিক্ত নয়নে গায়ে জড়িয়ে নিলাম।
বাবার ব্যবহৃত সেই আতরের ঘ্রাণ ভেসে আসছে।
যেন সদ্য ছিটানো।
বাবার খুব প্রিয় এই আতরটা
কখনও কখনও আমার গায়েও ছিঁটিয়ে দিতো।
বাবা আমাদের ছেড়ে গেছে বহুদিন!
দুই হাজার সতের সালের ঊনত্রিশে সেপ্টেম্বর!
এতদিন পরেও মনে হলো
সদ্য ছিটানো আতরের ঘ্রাণ!
আমার অজান্তেই হস্তদ্বয় চলে গেল পকেটে।
দু’হাতেই ছোঁয়া লাগে নেতানো কিছুর।
ভাবলাম হয়তো বাবার ব্যবহারযোগ্য টিস্যু,
বের করে দেখি টিস্যু না।
বাবার খরচের কিছু টাকা।
বহুদিন পড়ে থাকায় নেতিয়ে গেছে টাকাগুলো।
ঐ টাকা দেখার পর
আমার বুকটা ধুমড়ে মুছড়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল!
অঝোঁরে ঝরতে লাগলো অশ্রু!
যেন ওই টাকা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে নয়নের জল!
বাবা তোমার স্মৃতিরা আমার পিছু ছাড়ে না!
যে দিকেই দৃষ্টি পড়ে তোমারি স্মৃতি ভাসে!
শুধু তুমি নেই বাবা!
বাবা তোমার কোট-টা আবার ঝুলিয়ে রেখেছি তোমারই হ্যাঙ্গারে
নিজ হাতে তোমার প্রিয় আতর ছিটিয়ে!