
কলমেঃ কাকলি রানী ঘোষ
কুমড়ো ফুল ধরেছে মাচাই, প্যাচেঙ্গা পড়েছে ঝুলে।
আউশ ধান হাসছে মাঠে, হেমন্তে,’ নবান্নে’ আগমনে। পূর্ণিমাতে কোজাগরী লক্ষী, দিলেন শস্য, অন্নে ভরি।
বেনে বউটা আমের ডালে কোরছে ডাকাডাকি, ‘খোকা হোক’
গাছীরা সব দিচ্ছে চাচ, শীতে, রস গুড় পায়েস পিঠা।
কোলই, মটরশুটি, শস্য হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ।
দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া, শালিক, চড়ুই, লাল ঝুটি
উড়ে বেড়ায় খুশি মনে এদিক সেদিক,
অতিথি পাখিরা বিলের ধারে করছে মাতামাতি।
বিলে শোলা গাছে আছে ভরে, খোকা খুকি ঝাপিতে ধরছে মাছ।
খোকা আসবে বাড়ি মায়ের মনে খুশির জোয়ার।
দাওয়াই বসে বিন্নি ধানের খই, শালি ধানের চিড়ে,
খোকা এসে খাবে, মনের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়।
মাঠের পরে তাল গাছটাই, বাবুই পাখির বাসা ঝোলে।
মৌমাছিরা ফুলের মধু করছে চুরি, ভ্রমর এলো বাড়ি।
রংবেরঙের প্রজাপতি উড়ে বেড়ায় হলুদ গাঁদাফুলে।
অলস গরুগুলো জাবর কাটে বসে।
ভোরের সূর্য উঠলো হেসে, শিশির ঘাসের পরে।
শিউলি ফুলের ঝরা পথে, পথিকেরা যাই দূরে।
এমনই বাংলার হেমন্তের রূপ উঠেছে ফুটি।
কবি মনে ধরেছে ভাষা হেমন্তের এই রূপে।