
এম এম ইসলাম, ভাঙড়, কলকাতা থেকে:
শিক্ষা ও ক্রীড়ার মিলনে এক প্রাণবন্ত উৎসবের স্বাক্ষী রইল দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুর মহকুমা। বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, বারুইপুর মহকুমার অধীন মোট ১১টি চক্রের নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে মহকুমা স্তরের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো ভাঙড় হাই স্কুল মাঠে। ভাঙড় চক্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় লক্ষ্য করা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভাঙড় ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতি ঝর্ণা মন্ডল। পরে মহকুমা পতাকা উত্তোলন করেন ভাঙড় চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সৌমিক সরকার। পতাকা উত্তোলনের পর ক্রীড়াঙ্গন মুখরিত হয়ে ওঠে ছাত্র-ছাত্রীদের সুশৃঙ্খল মার্চ পাস্টে। ড্রিল ধ্বনির তালে তালে বিশেষ মাঠ পরিক্রমা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নীল-সাদা বেলুন উড়িয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাও দেওয়া হয়।
এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মোট ৩৪টি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। ৭৫ মিটার, ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, সাটল রেস, ফুটবল থ্রোইং, যোগা, জিমন্যাস্টিকসহ নানা ইভেন্টে প্রতিযোগীরা দক্ষতা ও প্রতিভার পরিচয় দেন। প্রতিটি খেলাতেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রাণবন্ত লড়াই।
দিনের শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারকারীরা আগামী বছরের ৫ ও ৬ জানুয়ারি মথুরাপুর উত্তর চক্রের কৃষ্ণচন্দ্রপুর বিবেকানন্দ ময়দানে অনুষ্ঠিত জেলা স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
এই প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করে ভাঙড় উত্তর চক্রের প্রতিযোগীরা। তারা পাঁচটি ইভেন্টে প্রথম, তিনটি ইভেন্টে দ্বিতীয় এবং দুটি ইভেন্টে তৃতীয় স্থান অধিকার করে উল্লেখযোগ্য ফলাফল করে।
অনুষ্ঠানে ভাঙড় উত্তর চক্রের শ্রীমতি মীরা গুপ্তা সহ অন্যান্য চক্রের সকল এসআইএস গণ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সম্পাদক কৌশিক সরদার সহ ভাঙড় বইমেলা কমিটির একাধিক সদস্যের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলে।
সমগ্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে শ্রীমতী লুসি পাল, শেখ সাবির হোসেন, শাহজাহান মোল্লা সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়া, অ্যাডিনেট ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শাহজাহান আলি বিশ্বাসের অপূর্ব, অনবদ্য ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনা পুরো অনুষ্ঠানকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে ক্রীড়ার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই ধরনের উদ্যোগ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, বারুইপুর মহকুমা স্তরের এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রইল।