
ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে পরাজয় বরণ করে ইহলোক ত্যাগ করলেন (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন )! বাংলাদেশের বার-বার প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া একজন “খালেদা জিয়া” আর নাই তা যেন ভাবতে ইচ্ছে হয় না! Balancing of DEMOCRATIC Power আগামী তে কি ভাবে হবে তা আমার মত অনেক কে ভাবনায় ফেলে বৈকি!
তিনি সরাসরি গৃহিণী থেকে এসেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন এটা তার বিশাল EFFICIENCY বলতেই হবে। “দেশনেত্রী” উপধি তার জন্য যথার্থ ছিলো। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে ৫ ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫ টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, ৫ টা আসনেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন! তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো বগুড়া – ৭, ঢাকা – ৫, ঢাকা – ৯, ফেনী -১ এবং চট্টগ্রাম – ৮, স্মর্তব্য – দে-শ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফেণী -১ আসনটি ধরে রেখে বাকী সব আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন!
অন্য দিকে দুঃখজনক হলে-ও সত্যি আওয়ামীলীগের ওভার কনফিডেন্সের ও পাতি নেতাদের কর্মে ফাঁকি দেয়ার জন্য “সভাপতি শেখ হসিনা” ৫ টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একমাত্র টুঙ্গিপাড়া জাতির জনকের নিজ বাড়ীর আসন ছাড়া বাকী চার টায় পরাজিত হয়েছিলেন!
লজ্জাজনক ছিলো ঢাকা -৭ (সূত্রাপুর কোতোয়ালি) আসনে নব রাজনৈতিক আগন্তুক নেতা “সাদেক হোসেন খোকার” সাথে পরাজয় বরন করেন প্রায় ২৭/২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে!
সব রাজনৈতিক দলীয় প্রধানের গুরুদায়িত্ব থাকে, দলের ভালোমন্দ লোকজনের সব দোষত্রুটি দলীয় প্রধানের দায় ভার বহন করতে হয়, বিশ্বের হাজার-হাজার দলীয় প্রধানের মত বেগম খালেদা জিয়ার যা কিছু কৃতকার্য্যতা ও ব্যর্থতা ছিলো তা আজ আলোচনার বিষয় না। আজ তার “আত্মার মাগফেরাত কামনার করছি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে!” সাথে দেশনেত্রীর অনেক ভালো কাজের মধ্যে একটা মাত্র অসম্ভব ভালোকাজ আমি তুলে ধরবো এদেশের জনগণের কাছে এবং প্রবন্ধ শেষ করবো।
২০০৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন বুঝেছিলেন, দেশ তথা নিজ দল বেশ “সিন্দাবাদের দৈত্যের” কবলে পড়েছে এবং আগাছা ছাপা না করলে কোন মতেই জনগণের জন্য ভালো কাজ করা সম্ভব হবে না, তখন তিনি
যা দেশের গতানুগতিক পুলিশ দিয়ে করা সম্ভব নয় এবং সব কাজে যখন-তখন সেনাবাহিনী ডাকা যায় না, এমন চিন্তা থেকে “পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট R A B” গঠন করেছিলেন এবং ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দেশের জনগণের সামনে প্রকাশ করেছিলেন!
এমনি বাহিনী সব কালে ছিলো, “শেখ মুজিবের রক্ষী বাহিনী, মেজর জিয়ার আর্মস ব্যাটেলিয়ান,
তবে যতদিন রক্ষীবাহিনী থাকবে, বেগম জিয়াকে অনেক স্মরণীয় কর্মের মধ্যে ” “আইনশৃঙ্খলা CHAIN OF COMMAND এ ফিরিয়ে আনতে R A B গঠন প্রশংসনীয় থাকবে দীর্ঘ দিন! বোদ্ধা লোকের কাছে RAB গঠন ছিলো সত্যি সময়োপযোগী বিরাট জ্ঞানী পদক্ষেপ!
অনেক ছুটেছেন দেশনেত্রী , অনেক বর্নাঢ্য জীবনের একজন নারী, দারুন দুঃখ-কষ্টে মৃত্যুর কিনারায় দাড়িয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে জীবনের সুখে থাকা সময়টা সম্পূর্ণ! দলের লোকদের সুক্ষ্ম ভুলে ছিলো সে ভোগান্তি , সে ভুল অন ইলেভেন “প্রতিহিংসা পরায়ন সরকার” কে সুযোগ করে দিয়েছিলো! কলিজায় ক্ষত নিয়ে গেছেন “ছোট ছেলের অকাল মৃত্যু”, সুখ নিয়ে গেছেন ” বড় ছেলের দেশে প্রত্যাবর্তন ও জনগণের কাতারে মিশে যাওয়া দেখে!”
তিনবারের একজন প্রধানমন্ত্রীর মহাকালের পরিসমাপ্তি হলো! আল্লাহ তাকে বেহেশতের সবচেয়ে সন্মানিত স্হান যাতে দান করেন সে-ই দরখাস্ত রেখে আমার এ লেখা শেষ করলাম!