
মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারী–২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল মনোনয়নপত্র জমা না দিয়েও বিএনপির প্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনের মনোনয়ন ফটোকপির মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মনোনয়নপত্রের মূল কাগজপত্র জমা না দিলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ফটোকপি মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই আইন পরিপন্থী।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আল ফারুখ আব্দুল লতিফ বলেন,
সন্ধ্যা ৬টার পরও বিএনপির প্রার্থী মূল মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফটোকপি গ্রহণ করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও এডিসি (জেনারেল)-এর কাছে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো সদুত্তর দেননি। বরং প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা পক্ষপাতমূলক আচরণেরই ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ কারণে প্রশাসনের ভূমিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে তাঁরা অনাস্থা প্রকাশ করেন।
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাছিদুল ইসলাম বলেন,
আমরা দুজনই প্রার্থী এবং পেশাগতভাবে আইনজীবী। আইন অনুযায়ী ফটোকপি মনোনয়ন গ্রহণ করার কোনো এখতিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার নেই। আজকের মধ্যেই যদি এই মনোনয়ন বাতিল না করা হয়, তাহলে আমরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেব।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের এমন আচরণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে এ ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করে পোস্ট করছেন।
কবি ও গীতিকার জাকারিয়া আল হোসাইন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন,
“আইনের কোনো ব্যত্যয় নেই—হয় ডিসির পদত্যাগ, নয়তো প্রার্থিতা বাতিল। বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট।
অন্যদিকে ইসলামিক বক্তা আরিফ আল মামুন লেখেন,
অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধভাবে মনোনয়ন গ্রহণের দায়ে নীলফামারীর ডিসিকে অপসারণ করতে হবে।
এছাড়াও বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে এবং মূল কাগজপত্র ছাড়া মনোনয়ন গ্রহণ করে নির্বাচন আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।