
কামরুল হাসান কানন
সাবিত রিজওয়ান নামে এখন সাহিত্যচর্চা করলেও তার প্রকৃত নাম মোঃ রেজন মিয়া। আমি জানতাম না তার জন্মস্থান গাইবান্ধা। যখন সে বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করত, ওই বিদ্যালয়েই আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আর সে ছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। আমি দেখেছি স্কুলে অনেকে তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করতো। সে পড়ালেখায় তেমন মেধাবী নয়, তার কাছে শুনতে চাইলে সেও এটাই বলবে। সে আগে ছিল আমার ছোটভাইয়ের বন্ধু, এখন আমার বন্ধু। ছোট-বড় অনেকে তাকে বন্ধু বলে ডাকে, এভাবেই সে তরুণ বন্ধু তুফান। আমি শুনেছি তার ভাই-বোনেরাই তাকে ঠিকমতো সন্মান, আদর-স্নেহ করে না। সে কিন্তু সরল প্রকৃতির মানুষ, ভীতুও বটে। সে নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিতে পছন্দ করলেও অসহায় মানুষদের প্রতি তার রয়েছে অনেক মায়া। সে যে মেয়েটাকে পছন্দ করতো, সেই মেয়েটা আমারও বান্ধবী ছিল; অবশ্য আমার আগে মেয়েটার সাথে তার বন্ধুত্ব হয়েছিল। যখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন শুনেছি অনেকে তাকে চিকন আলী নামে ডেকে মজা নিত। ছোটবেলায় সে অভিমানী ছিল এবং অভিমান বসত কান্না করার ফলে সে তুফানও বটে। সে লেখক জীবনে কবে প্রবেশ করেছে, তার নিজেরও জানা নেই। ২০২২ সালে দেশচিত্র পত্রিকায় তার ‘সুখি মানুষ’ কবিতা প্রকাশ হয়েছিল, ধারণা করা হয় ২০২২ সাল থেকে সাহিত্যে প্রবেশ করেছে কিন্তু আমি তার মুখে শুনেছি সে কবিতা লেখার আগে চার-পাঁচটা গল্প লিখেছিল। গল্প লিখেছিল আনুমানিক ২০২০ বা ২০২১ সালে। আমরা বন্ধুত্বে আসি ২০২৩ সালে, বন্ধুত্ব হয়েছিল একটা প্রাইভেটে এবং তখন জানতে পারি তার বাড়ি গাইবান্ধা। আগের তুলনায় পড়ালেখার অবস্থা এখন একটু বেশি খারাপ হয়েছে। সে যে শুধু সরল প্রকৃতির মানুষ এমনও পুরোপুরি না, সে জেদিও বটে। আমরা যে সমাজচেতনা ফাউন্ডেশন চিনি, এটার প্রতিষ্ঠাতাও সে; আমি সহপ্রতিষ্ঠাতা। ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সম্ভবত ১০ জুলাই-২০২৪, অর্থাৎ এই দিন থেকে সে চিন্তা ভাবনা করতে শুরু করে একটা ফাউন্ডেশন করার। ফাউন্ডেশন সম্পর্কে প্রথম মিটিং হয় ৮ ডিসেম্বর-২০২৪ শালমারা বাজারের ওখানে, আমি উপস্থিত হতে পারিনি। মিটিং এ কয়েকজন বলেছিল ফাউন্ডেশনটির নাম ‘মানব কল্যাণ বন্ধু সংঘ’ এই নামটি রেজনের পছন্দ না হওয়ায় ১৬ ডিসেম্বর-২০২৪ ফাউন্ডেশনটির নাম ফাইনাল করেন ‘সমাজচেতনা ফাউন্ডেশন SCF’। আজ যারা দাবি নিজেদেরকে বলে, “আমি সভাপতি”, ” আমি সহসভাপতি”, “আমি সাধারণ সম্পাদক”, “আমি অর্থ সম্পাদক” এগুলোকে তো রেজন স্বীকৃতি দেয়নি। ফাউন্ডেশনটিকে দেশ-বিদেশে পরিচিত করা যেত, রেজনকে তো বাহিরের দেশের একজন হলেও চেনে। আমাদের দেশেই তো সে ‘সময়ের ধারার চিত্রকর’ হিসেবে পরিচিত। শালমারা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে আমরা যখন পড়ালেখা করি, পরীক্ষায় সে আমার দেখে দেখেও লিখতো; হ্যা আমিও কখনো তার লেখা দেখে দেখে লিখতাম। আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু রয়েছে তার মধ্যে রেজন একটু ব্যতিক্রম, তাকে ভুলে যাওয়া যায় না। বন্ধুত্বের মাঝে একটু পাগলামি থাকতে হয়, এটা সে আমায় শিখিয়েছে। পায়রাবন্দের মাটি, পাখি, মানুষ ইত্যাদি ওকে চেনে। আমি দেখেছি কবিতার চেয়ে তার আগ্রহ একটু বেশি গান, গল্প, কলাম এগুলোতে। আমি শুনেছি ২০২২ সালের শেষের দিকে তাকে কবিতা মুক্তছন্দের বিষয়ে অল্প কিছু ধারণা দেয় নুরুল কবির, যার বাড়ি চট্টগ্রাম। কবিতা সম্পর্কে রেজনের তেমন ধারণা নেই, সপ নিজ মুকে বলেছিল। সে বলে, “মনের ভাব ছন্দ-রসে লেখা লেখায় কবিতা”। আমি দেখেছি আগের মতো সে নিয়মিত লিখতে পারে না, আর যখন লিখে তখন তার লেখায় কিছু গবেষণাধর্মী বাক্য থাকে। ‘একা বেঁচে থাকতে শিখো প্রিয়’ এই লাইনটি হয়তো তার জীবনের সাথে মিলে যায়, সে বেশির ভাগ সময় একা একাই কাটায়। মোঃ আহসান কবির রিজওয়ান এই নামটিও তারই, ওর এত নাম, মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে বলতে ইচ্ছে করে, ” তুমি এত নাম বদলাও কেন? তুমি বহুরূপী নাকি?” রেজন বেকার, আমি দোয়া করি সে বেকার জীবন থেকে মুক্তি পাক। “তরুণ বন্ধু তুফান, প্রেম-বিপ্লবের নিশান…” এই স্লোগানটি তার উদ্দেশ্যই লেখা। সেই একটা কবিতায় উল্লেখ করেছিল “আমি প্রেম-বিপ্লবের নিশান…” আর আমরা তো জানি ছোট-বড় অনেকে তাকে বন্ধু শব্দে ডাকে। বিশ্লেষণ করে এটাই পাওয়া যায় “তরুণ বন্ধু তুফান, প্রেম-বিপ্লবের নিশান…” ২০২৫ সালে তো ওর বয়স ১৮ সেই ক্ষেত্রে তরুণ।