
কলমেঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
ভেনিজুয়েলার রাজধানী “কারাকাাস” থেকে প্রেসিডেন্ট “নিকোলাস মাদুরা” ও তার সহধর্মিণী কে আটক করে নিয়ে এসেছেন আমেরিকায়, এমন দাবী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং ! তিনি এ-ও বলেছেন ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্হা কেমন হবে তা ঘোষণা করা হয়েছে! ভেনিজুয়েলা তেলসমৃদ্ধ দেশ তার তেল ও খনিজ সম্পদ মার্কিন তেল কোম্পানি নিয়ন্ত্রণে যাবে! তিনি খুব সুন্দর করে বলেছেন, ভেনিজুয়েলার আয়ের অর্থ ঐদেশের অবকাঠামো গত উন্নয়নে খরচ হবে, যতদিন দেশ অর্থনৈতিক ভাবে ঘুরে না দাঁড়াবে এবং শান্তিপূর্ন ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হবে ততদিন দেশ তাঁরাই চালাবেন!
প্রিয় পাঠক, একটা দেশ অন্য একটা দেশের প্রেসিডেন্ট কে ক্ষমতার জোরে ধরে আনায় কি
মানবতা মানুষ্যত্ব গনতন্ত্র ধর্ম এতটুকু খর্ব হলো?
বলেছিলাম কি, সারা বিশ্বের, সব দেশের মানবতা লঙ্ঘন, গনতন্ত্র হরণের বিষয় সোচ্চার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কি এহেন কাজ সমুচিত হলো?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন কর্মে ঐদেশের ” এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বিরোধী দলের নেত্রী “মাচাদো” বলেছেন, “আমরা স্বাধীনতা পেলাম”! কোন দেশের সরকার পতন হলে কি স্বাধীনতা লাভ হয়? আমেরিকার জো বাইডেন স্যার নির্বাচনে পতনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন, তাতে কি আমেরিকা নতুন ভাবে স্বাধীন হয়েছে? তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মত বিরোধী দলের প্রার্থী কে হত্যার চেষ্টায় গুলি করা হয়েছে, হয়রানি মামলা হয়েছিলো গোটা পনেরো, তা হলে পার্থক্য কোথায়?
গত কয়েক বছর মার্কিন সহায়তায় অনেক দেশে নতুন স্বাধীনতা এসেছে, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা সিরিয়া বাংলাদেশ এবং সদ্য স্বাধীনতা পেলো তেল সমৃদ্ধ দেশ ভেনিজুয়েলা!
ভেনিজুয়েলার অপরাধ কি? আসল অপরাধ সে বিশ্বে প্রথম তেল মওজুদ ধনী দেশ, যার মওজুদ আরবীয় দেশ সমূহ, কানাডা, ইরান, রাশিয়া থেকে বেশি নাকি কোকেন জাতীয় নেশা আমদানি করা, না-কি রাশিয়া চীন ইরান ঘেষা সে অপরাধ, নাকি এত সম্পদ প্রতিবেশী, ভাগ না দিয়ে কেমনে ভোগ করে?
ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগ ছিলো, তার কাছে Chemical Weapons আছে! ভেনিজুয়েলার মাদুরার কাছে মেশিন গান জাতীয় ধ্বংসত্ময় অস্ত্রের অভিযোগ! পরমাণু অস্ত্রের অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে। সেখানে ও সাতদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে, হয়তো ইরান ও দ্রুত স্বাধীনতা লাভ করবে!
নিজ বাড়ী থেকে ধরে নেয়া হয়েছে মাদুরা ও তার স্ত্রী ” সিনিয়া ফ্লোরেস” কে! মজার কথা অনেকটা খোলামেলা হাইজ্যাক বা মানব অপহরণ। প্রথমে ছয়টা বিমান বন্দর ১৫০ টা মার্কিন যুদ্ধ বিমানে আক্রমণ করেছে, মাদুরার বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করা হয়েছে এবং দু’টো প্রানীকে অপহরণ করে মার্কিন Metropolitan detention centre এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সব দেশের মার্কিন অপারেশনে সরকারি দলের লোক ভাগানো হয়, মাদুরা কোথায় আছেন সে সন্ধান তার মন্ত্রী পরিষদের কেউ জানিয়েছেন বলে শোনা গেছে।
এমন ঘটনায় রাশিয়া চীন ইরান ব্রাজিল কলম্বিয়া সহ ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশ অগণতান্ত্রিক বলে নিন্দা করছে! অবশ্য বিশ্বের সভ্য ইউরোপীয় দেশগুলো কিছু বলেন নাই! বিশ্ব আদালত জাতিসংঘের “মিঃ গুতেরেস” গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন! আপনার আমার উদ্বেগের কোন কারন নাই, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোন সভা ডাকেন নাই, এত ছোটোখাটো বিষয় তেমনটা করার কি ই বা দরকার? কিভাবে “মাদুরাকে” অপহরণ করা হয়েছে তার অধিকাংশ তথ্য ই ডোনাল্ড ট্রাম্প স্যার ও তার বিদেশ মন্ত্রী “মার্ক রুবিও ” সদর্পে বিশ্বকে দিয়েছেন! এর অর্থ হলো, কোন দেশের অত্যাধিক উন্নয়ন বা সম্পদ থাকতে নেই, সোজাসাপটা মার্কিন গনতন্ত্র বলেন আর মার্কিন সমাজতান্ত্রিক থিউরি বলেন! বিশ্ব মার্কিন থিউরি তে চলবে!
এখন নাকি ভেনিজুয়েলার মাটির নিচেের সম্পদ তোলা হবে এবং তেল বিদেশে রপ্তানি করা হবে! ঐ দেশের সুপ্রিম কোর্ট মাদুরার ভাইস প্রেসিডেন্ট কে প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্ব দিয়ে ফেলেছে এবং মার্ক রুবিও বলেছেন নতুন প্রেসিডেন্ট মার্কিন স্বার্থ রক্ষা হয়, সে ভাবে কাজ করতে রাজি আছে! সব ই প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তবে কত মিলিয়ন investment লেগেছে ট্রাম্প স্যার ভেনিজুয়েলার বিষয় আগের মত খোলামেলা কিছু বলেন নাই!
প্রিয় পাঠক, সব শেষে রাশিয়া চীন ইরান তুরস্ক শক্তিধর দেশগুলো কে বলতে চাই একজন ক্ষুদ্র লেখক হিসাবে, “আপনারা কোন দেশ রক্ষা করতে পারেন না, দয়া করে আপনাদের ব্লকে আর কোন ছোট দেশগুলোকে টানাহেঁচড়া করিবেন না! সারা বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একছত্র অধিপত্যেবাদে চলুক তাতে নীল চাষ করানো, করিডর নেয়া বা ঘাটি করুক, কাউকে রক্ষা করার লোভ দেখায়ে সে দেশটার সমূহ ক্ষতি করবেন না, বরং নিজেকে নিজে রক্ষা করুন! ভুলে যান সে-ই গনতন্ত্রের সংজ্ঞা বরং নতুন সজ্ঞা হোক ” Democracy is by America, for Amera, and Of America.
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন আমেরিকা কে ভালোবাসেন!